ভুল করে অ্যাপ ক্যাব চালকের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এক প্রযুক্তিবিদ। বহু চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারছিলেন না তিনি। ধরেই নিয়েছিলেন সেই টাকাটি গচ্চা গেল তাঁর। রাত সাড়ে ৯টায় তাঁর আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে একটি ফোন পান প্রযুক্তিবিদ। তাঁর মুখে একটি সংবাদ শুনে নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তরুণ। সকালের সেই ১০ হাজার টাকার হদিস মেলে রাতে। সেই অভিজ্ঞতার কথা এক্সে একটি পোস্টে তুলে ধরেছেন ওড়িশার বাসিন্দা ওই তরুণ। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ভাইরাল হয়েছে পোস্টটি। যদিও সেই পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভুবনেশ্বরের সফ্টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার দেবাশিস ত্রিপাঠী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘‘কাজের জন্য একটি অ্যাপ ক্যাব নিয়েছিলাম। ভুলবশত আমার ব্যবসা সংক্রান্ত কারণে এক ব্যক্তির নম্বরে টাকা পাঠাতে গিয়ে চালককে ১০ হাজার জি-পে করে ফেলি। কারণ দু’জনের নাম হুবহু একই ছিল! অ্যাপের মাধ্যমে ক্যাবচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম। সেই চেষ্টা সফল হয়নি। ভেবেছিলাম টাকাটা জলে গেল।” এর পর যা ঘটল তা আঁচ করতে পারেননি দেবাশিস। পোস্টে লিখেছেন রাত সাড়ে ৯টায় তাঁর বহুতলের নিরাপত্তারক্ষীর থেকে ফোন পান তিনি। নিরাপত্তারক্ষী জানান, শ্রীকান্ত নামে এক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। দেবাশিস ভাবতেও পারেননি অ্যাপচালক রাত্রে তাঁকে খুঁজে বার করে টাকাটি ফেরত দিতে এসেছেন।
আরও পড়ুন:
পুরো ১০ হাজার টাকাই ফেরত পেয়েছেন দেবাশিস। কৃতজ্ঞতাবশত পুরস্কার দিতে চাইলেও ক্যাবচালক শ্রীকান্ত তা প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানান তিনি। ওড়িশার বাসিন্দা তাঁর পোস্টের মাধ্যমে ক্যাবচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, ‘‘এই ধরনের সততা ও নিষ্ঠা খুব কমই দেখা যায়। শ্রীকান্তের প্রতি আমি মুগ্ধ ও কৃতজ্ঞ, যিনি একজন অপরিচিত ব্যক্তির জন্য এই কষ্টটুকু করেছেন।’’ পোস্টটি ইতিমধ্যে কয়েক লক্ষ বার দেখা হয়েছে। ক্যাবচালকের সততা নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন নেটাগরিকেরা। অনেকেই মন্তব্য বিভাগে নিজেদের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন। এক নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘‘আমার ভাগ্য অতটা ভাল ছিল না, আমার সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছিল। তবে সেই ক্যাবচালক প্রতারক ছিলেন। ভুলবশত তাঁর কাছে চলে যাওয়া পুরো ২০০০ টাকাই আত্মসাৎ করে নেন।’’