রেস্তরাঁ সাজানো হয়েছে ভৌতিক কায়দায়। খাবার যাঁরা পরিবেশন করছেন, তাঁরাও ভূতুড়ে পোশাক পরে। আর সেই রেস্তরাঁয় খেতে গিয়েই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হল পরিবারের সঙ্গে থাকা এক খুদের। আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে থাকে সে। তেমনই একটি ঘটনার ভিডিয়ো সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি বারাণসীর। ভিডিয়োটিকে কেন্দ্র উঠেছে বিতর্কের ঝড় ওঠে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, বাবা-মার সঙ্গে একটি রেস্তরাঁয় খেতে গিয়েছে দুই খুদে। রেস্তরাঁর অন্দরের পরিবেশ ভৌতিক। অন্দরসজ্জা এবং আলোও বেশ ভূতুড়ে। দেওয়ালে তেনাদের ছবি টাঙানো রয়েছে। এর মধ্যে হঠাৎই রেস্তরাঁর এক কর্মী ‘ভূত’ সেজে ওই পরিবারের জন্য খাবার নিয়ে আসেন। আঙুলে বড় বড় নকল নখও লাগিয়েছিলেন তিনি। ওই কর্মীকে দেখে আঁতকে ওঠে পরিবার। তবে বিষয়টি বুঝে গৃহকর্তা হাসতে থাকেন। ওই কর্মীর সঙ্গে হাত মেলান। কিন্তু দৃশ্যতই ওই কর্মীকে দেখে ভয় পেয়ে যায় তাঁর দুই সন্তান। এক জন আতঙ্কে মুখ লুকোয়। অন্য খুদে কাঁদতে শুরু করে জোরে জোরে। ভয়ে সিঁটিয়ে বাবার হাত ধরে ফেলে। বালক এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে যে সে বার বার তার বাবাকে ডেকে বলে, ‘‘না, বাবা, না।’’ কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে ভূতের ছদ্মবেশে থাকা কর্মী তাঁর কার্যকলাপ চালিয়ে যান। শিশুটির ভয় আরও বাড়তে থাকে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ওই ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে রেস্তরাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকেই। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারাণসীর চেতগঞ্জ এলাকায় ভৌতিক থিমের ওই রেস্তরাঁটি রয়েছে। রেস্তরাঁটি একটি ভৌতিক আবহে সাজানো এবং কর্মীরা ভূত ও কঙ্কালের সাজে গ্রাহকদের খাবার পরিবেশন করেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে এই ধরনের অভিজ্ঞতা সব বয়সের জন্য উপযুক্ত কি না। বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে শিশুদের জন্য এটি কতটা নিরাপদ এবং উপযুক্ত, তা নিয়ে। প্রশ্ন উঠছে বিনোদনের জন্য শিশুদের কাছে ভয় বিক্রি করার যৌক্তিকতা নিয়ে।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই কড়া ভাষায় ঘটনাটির নিন্দাও করেছেন। ক্ষোভপ্রকাশও করেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘এটা মোটেও মজার নয়, বাচ্চাটি সত্যিই ভয় পেয়েছে।’’ অন্য এক জন লিখেছেন, ‘‘দেখতে পাচ্ছেন বাচ্চাটি ভয় পাচ্ছে, তা হলে তাকে আরও ভয় দেখানোর কী দরকার? আর বাবা-মায়েরও ওই রেস্তরাঁয় সন্তানদের নিয়ে যাওয়া উচিত হয়নি। এই ঘটনা শিশুমনে উপর প্রভাব ফেলতে পারে।’’