দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরেই মাকে ফোন। কাঁপা কাঁপা গলায় পাশ করার কথা জানিয়েই কান্নায় ভেঙে পড়ল কিশোরী। তাকে কাঁদতে দেখে কেঁদে ফেললেন গরিব পরিবারের কন্যাকে পড়াশোনা করানো পুলিশ কনস্টেবলও। দিল্লির সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। হইচইও ফেলেছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে একটি ছোট শিক্ষাকেন্দ্র চালান হেড কনস্টেবল থান সিংহ। যে সব ছোট ছোট ছেলেমেয়ের পড়াশোনার ইচ্ছা রয়েছে, কিন্তু ঠিকমতো খরচ বহনের সামর্থ্য নেই, তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেন তিনি। ওই শিক্ষাকেন্দ্রের সে রকমই এক পড়ুয়া এ বছর দশম শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছিল। ভাল ফলও করেছে সে। ফলপ্রকাশের পরেই আনন্দে আপ্লুত হয়ে যায় কিশোরী। মাকে ফোন করে পরীক্ষায় পাশ করার কথা জানায় সে। ফোনে কথা বলার সময় তার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ে। পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন থান। কিশোরীকে কাঁদতে দেখে তিনিও কেঁদে ফেলেন। কয়েক সেকেন্ড পরেই একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে কাঁদতে থাকেন দু’জনেই। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দশম শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ওই কিশোরীর নাম সাক্ষী। সে থান সিংহের শিক্ষাকেন্দ্রের সবচেয়ে পুরনো ছাত্রীদের মধ্যে একজন। পরিস্থিতি সহজ না হওয়া সত্ত্বেও হাল ছাড়তে রাজি ছিল না গরিব বাড়ির কন্যা সাক্ষী। সে সময় তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন থান। কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের জেরে দশম শ্রেণির পরীক্ষায় পাশ করেছে সে।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘থানসিংহকীপাঠশালা’ নামের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখে আবেগে ভেসেছে নেটপাড়া। কিশোরী এবং তার শিক্ষাদাতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন নেটাগরিকেরা। ভিডিয়োটি দেখে এক নেটাগরিক লিখেছেন, “অভিনন্দন। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন।” অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘সাক্ষী, তোমার জন্য খুব গর্বিত। অভিনন্দন। এগিয়ে যাও।” অনেকে থানকেও তাঁর কাজের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন সবাই। এক জন মন্তব্য করেছেন, “খুব ভাল কাজ। আপনাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আশা করি এক দিন সবাই আপনার মতো সমাজসেবার পথে হাঁটবে।”