প্রেমিকা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে চান। প্রেমিক নাছোড়। ভালবাসাকে আটকে রাখতে হিংসার আশ্রয় নিলেন তিনি। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রেমিকাকে ভয় দেখানো, মারধর করা এবং তাঁদের একান্ত মুহূর্তের ছবি ভাইরাল করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন যুবক। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থানার ঘটনা।
পুলিশ সূত্রে খবর, মূল অভিযুক্তের নাম গৌতম গায়েন। এক তরুণীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ‘চাঞ্চল্যকর তথ্য’ মিলেছে। তার পরে তাঁর দুই সঙ্গীকেও ধরা হয়েছে।
সোনারপুর থানা এলাকার বাসিন্দা অভিযোগকারিণী কলেজে পড়াশোনা করেন। অভিযুক্ত যুবকও ওই একই কলেজের ছাত্র এবং তরুণীর সহপাঠী। কলেজে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁদের। ছাত্রীর অভিযোগ, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে মাঝেমধ্যেই তাঁর কাছ থেকে টাকা নিতেন প্রেমিক। সম্প্রতি ব্যবসা করবেন বলে তাঁর কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন যুবক। ‘এত টাকা কোথায় পাব?’ প্রশ্ন করতেই শুরু হয় ব্ল্যাকমেল।
আরও পড়ুন:
ছাত্রীর দাবি অনুযায়ী, অশান্তি হচ্ছিল বলে তিনি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে চান তিনি। তাতে ফল হয় আরও খারাপ। তাঁকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিতে থাকেন প্রেমিক। ছাত্রীর অভিযোগ, ‘‘পিস্তল দেখিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়েছে। তার পর আমাদের দু’জনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেবে বলে। আমার গায়েও হাত তুলেছে।’’ শারীরিক এবং মামসিক নির্যাতনের অভিযোগ করে পুলিশের দ্বারস্থ হন কলেজছাত্রী। পুলিশের কাছে তিনি জানান, তাঁর বাড়িতে গিয়ে মারধর করেছেন প্রেমিক।
পুলিশ জানিয়েছে, গৌতমকে গ্রেফতার করার পরে হাসু রহমান লস্কর এবং মনিরুল শেখ নামে আরও দু’জনের নাম পাওয়া যায়। তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তল্লাশি অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে অভিযুক্তদের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে একটি সেভেন এমএম ইমপ্রোভাইজ়ড সেমি-অটোমেটিক পিস্তল (ম্যাগাজিন-সহ), একটি ইমপ্রোভাইজ়ড দেশি ওয়ান শুটার আগ্নেয়াস্ত্র। এই ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁরা কোথা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসেছিলেন, কোনও অস্ত্র পাচারচক্রের সঙ্গে তিন জন জড়িত কি না, এ সব তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।