ভোট সামনে আসতেই মহকুমা জুড়ে মাটি, বালির বেআইনি কারবার বাড়ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের কর্তারা এসআইআর, ভোটের ব্যস্ত থাকায় নজরদারি কমেছে। সেই সুযোগে ফুলে ফেঁপে উঠছে বেআইনি কারবার।
পূর্বস্থলী ২ ব্লকে লোহাচুরে গ্রহরাজতলার আশপাশে রয়েছে কিছু খাসজমি। এলাকাবাসীর একাংশ জানান, ফি বছর মাঘে বড় মেলা হয়। আসেন প্রচুর মানুষ। খাস জমির মাটি, বালি কেটে নেওয়ায় মেলাপ্রাঙ্গণ সঙ্কুচিত হচ্ছে। কোথাও ১০ ফুট, কোথাও ২০ ফুট গর্ত তৈরি হয়েছে। বালি ট্রাক্টর পিছু ১৫০০ টাকা এবং মাটি ১১০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা সনকা মাহাতোর দাবি, ‘‘সকলের সামনেই চলে কারবার। বালি, মাটির গাড়ির ধুলোয় এলাকা ভরে যায়। ফসলের ক্ষতি হয়। এলাকাবাসীর ক্ষোভ চরমে উঠলে রাস্তায় জল ছিটিয়ে ক্ষোভে প্রলেপ দেওয়া হয়।’’ আর এক বাসিন্দা নৃপেন মুন্ডারির কথায়, ‘‘প্রতিবাদ করলে বিপদ বাড়বে বলে চুপ থাকি।’’
সিপিএম নেতা তথা পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সাহা বলেন, ‘‘মেলাতলা ক্রমশ ছোট হচ্ছে। সেখান থেকে অবৈধ ভাবে কেটে নেওয়া হচ্ছে বালি, মাটি। এই কারবারে জড়িতরা প্রশাসনের কর্তাদের উৎকোচ দিচ্ছে। গোটা ব্লকে বালি, মাটি মাফিয়ারা দাপাদাপিতে মদত দিচ্ছে তৃণমূল।’’ বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ দেবনাথেরও অভিযোগ, ‘‘এই কারবার চলছে প্রশাসন এবং তৃণমূলের ইন্ধনে।’’ পূর্বস্থলী উত্তরের জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী বাবান ঘোষও প্রচারে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন।
অভিযোগ, রাতারাতি পূর্বস্থলী ১ ব্লকের জালুইডাঙা মৌজায় ভাগীরথীর চর থেকে মাটি, বালি কাটা শুর হয়েছে।তারপরে ট্রাক্টরে তা পৌঁছে দেওয়া হয় বিভিন্ন ঘাটে। সেখান থেকে মোটর ভ্যানে চাপিয়ে বালি, মাটি পাচার হয় বিভিন্ন এলাকায়। এক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘‘রাত ৮টায় নদীতে যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়। তার পরেই শুরু হয় অবৈধ কারবার। পুলিশকে জানানো হলে চোরাচালাকরারীরা অভিযোগকারীর নাম জেনে যায়। কিছু দিন আগে মহকুমাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ হয়েছিল। তার পরে কারবার কিছু দিন বন্ধ ছিল। ফের শুরু হয়েছে।’’
পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য চলছে বলে অভিযোগ বিজেপির। দলের রাজ্য কমিটির সদস্য সন্দীপ নন্দীর দাবি, ‘‘তৃণমূল ও প্রশাসনের মদতে চলা এই কারবার নিয়ে মানুষ বিরক্ত। কিছু জায়গায় কারবারিরা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে জলাশয় তৈরির আবেদন জানিয়ে রয়্যালটির অর্থ জমা দিচ্ছে। রয়্যালটি জমা দেওয়ার নথি দেখিয়ে কেটে নেওয়া হচ্ছে মাটি।’’ কালনা ২ ব্লকের সাতগাছিয়ায় এসটিকেকে রোডের সামনে একটি বিশ্রামাগার এবং গোরস্থানের কাছে স্তূপাকারে জমিয়ে রাখা হয়েছে মাটি। এর বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অনিমেষ ভাঙ্গি। তিনি জানিয়েছেন, এ ভাবে বিশ্রামাগারের পাশে মাটির স্তূপ ফেলে রাখা যায় না। প্রশাসন দেখুক।
বিরোধীদের অভিযোগকে পাত্তা দিতে নারাজ তৃণমূল। কালনার বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ বলেন, ‘‘ভোট আসছে বলে বিরোধীরা অপপ্রচার করছে।’’ কালনার মহকুমাশাসক অহিনসা জৈন জানিয়েছেন, মাটির কারবার সম্পর্কে পূর্বস্থলী ২ ব্লক থেকে কিছু অভিযোগ এসেছে। সেগুলি বিডিও এবং বিএলআরও-র কাছে পাঠানো হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)