নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ দিতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) ‘অযোগ্য হিসাবে চিহ্নিত’ বা ‘দাগি’ চাকরিহারাদের একাংশ। কিন্তু বুধবার হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চও তাঁদের ফিরিয়ে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। রিভিউ পিটিশনও বিচারাধীন। তাই আপাতত এই সংক্রান্ত মামলায় হাই কোর্ট হস্তক্ষেপ করবে না।
দুর্নীতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসএসসি-র ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল হয়ে গিয়েছে। চাকরি গিয়েছে ২৫,৭৩৫ জনের। তাঁদের জন্য রাজ্য সরকারকে নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে। কিন্তু এই চাকরিহারাদের মধ্যেই একাংশকে ‘দাগি’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁরা নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারবেন না। তাঁদের ফেরত দিতে হবে এত দিনের বেতনও। এই পরিস্থিতিতে ‘দাগি’ চাকরিহারাদের একাংশ বুধবার হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। হাই কোর্টে এখন গরমের ছুটি চলছে। বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের অবকাশকালীন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মামলাকারীদের আইনজীবী। বক্তব্য, তাঁদের স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বেতনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তাঁদেরও সুযোগ দেওয়া হোক। এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক উচ্চ আদালত।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হচ্ছে। আগামী ৩০ মে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। অনলাইনে আবেদনের শেষ দিন ১৪ জুলাই। পরীক্ষা, স্ক্রুটিনি, ইন্টারভিউয়ের পর আগামী ১৫ নভেম্বর প্যানেল প্রকাশ করা হবে। সেই অনুযায়ী কাউন্সেলিং হবে ২০ নভেম্বর থেকে। চাকরিহারাদের এই প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে রাজ্য সরকার। যাঁরা ‘দাগি’ নন, তাঁরা নতুন করে পরীক্ষায় বসতে নারাজ। মমতা জানিয়েছেন, তাঁদের হয়ে সরকার লড়বে। কিন্তু আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদেরও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ দিতে হবে।
বুধবার মামলাকারী ‘দাগি’রা আদালতে জানান, মুখ্যমন্ত্রী নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ার দিনক্ষণ জানিয়ে দিয়েছেন। সেখানে তাঁরাও একটি সুযোগ চান। কিন্তু এই মামলা গ্রহণ করতে রাজি হয়নি হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ। বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, এই সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে। তার রিভিউ পিটিশনও শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। ফলে এই মামলায় হাই কোর্ট হস্তক্ষেপ করবে না।
উল্লেখ্য, চাকরিহারা ‘দাগি’দের কিছু অংশ নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সুযোগ চেয়ে দফায় দফায় শীর্ষ আদালতেও মামলা করেছেন। কিন্তু তাঁদের আর্জি বার বার খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এ বার হাই কোর্ট থেকেও খালি হাতে ফিরতে হল তাঁদের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ২০১৬ সালের এসএসসিতে নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট। বলল, পুরো প্রক্রিয়ায় কারচুপি করা হয়েছে। ওই নিয়োগপ্রক্রিয়ার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।
- এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কলকাতা হাই কোর্ট এই সংক্রান্ত শুনানির পর ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগপ্রক্রিয়াই বাতিল করে দিয়েছিল।
- রাজ্যের ২৬ হাজার চাকরি (আদতে ২৫,৭৫২) বাতিল করে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
-
৭,২৯৩ জন দাগিরই পুরো তালিকা প্রকাশ করতে হবে! গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি মামলায় এসএসসি-কে নির্দেশ হাই কোর্টের
-
নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে ‘দাগিদের’ বাদ দেওয়ার রায়কে চ্যালেঞ্জ, ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য এবং এসএসসি
-
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সংশোধন এসএসসির, জেনারেলের মতোই আবেদন করতে হবে ওবিসিদের
-
আদালত অবমাননার আশঙ্কা, তাই নির্দেশ মতো পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি আইনি লড়াই চলবে, বললেন মমতা
-
উত্তরপত্রে কারচুপি থাকলে পরীক্ষায় বসতে পারবেন না, ‘অযোগ্য’দের আর্জি খারিজ করে জানাল সুপ্রিম কোর্ট