করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় রাজ্যের জেলাগুলি কতটা প্রস্তুত তা সোমবার খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে নবান্ন থেকে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন প্রতিটি জেলা ধরে ধরে জেলাশাসকদের প্রশ্ন করেন, করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য কোথায় কোথায় আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং কোয়রান্টিন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে?
জেলাশাসকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী জেলার মূল হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড করতে বারণ করেন। তিনি জেলাশাসকদের বলেন, ‘‘মূল হাসপাতালের মধ্যে করোনার চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে সাধারণ রোগীদের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভবনা থেকে যাবে। সেটা অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।’’ সে কারণে মুখ্যমন্ত্রী মূলত বিচ্ছিন্ন জায়গায় করোনা চিকিৎসার বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দেন।
প্রতিটি জেলাতেই বেসরকারি হাসপাতাল, এমনকি পর্যটকদের থাকার জায়গাগুলোয় আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া বীরভূমের বাসিন্দাদের জন্য দুর্গাপুর-আসানসোল এলাকার তিনটি বড় বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড চিকিৎসার বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দেন তিনি। এ দিনের রিভিউ বৈঠকে অধিকাংশ জেলাশাসকই মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে, প্রতিটি ব্লকে গড়ে দু’টি করে কোয়রান্টিন সেন্টার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জীবাণুনাশক স্প্রে করা হল এ ভাবে? ভয়ঙ্কর ভিডিয়ো, বিতর্কে যোগী সরকার
এ দিনের বৈঠকে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী-সহ যাঁরা কোভিড-১৯ চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত আছেন তাঁদের বিমার পরিমাণ ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিমার আওতায় বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী, যাঁরা করোনা চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন তিনি।
মমতা এ দিন রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার এবং অধ্যক্ষদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। মালদহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে চান, সেখানে কতগুলো আইসোলেশন বেড করা সম্ভব? একই রকম ভাবে তিনি মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষার জন্য কলকাতায় নাইসেডে পাঠানো নিয়ে সমস্যার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি পরামর্শ দেন, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠাতে। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের খাওয়াদাওয়ার বিষয়েও খোঁজখবর নেন। সবাইকে উষ্ণ গরম জল লেবু দিয়ে খাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
আরও পড়ুন: জানা যায়নি কী ভাবে সংক্রমণ, করোনায় মৃত কালিম্পঙের মহিলার সংস্পর্শে অনেকেই
মুখ্যমন্ত্রী এ দিন রাজ্যের সীমানা এবং সীমান্ত কড়া হাতে সিল করতে বলেন। তবে পুলিশি কড়াকড়ি যাতে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে না যায়, তা নিয়েও সতর্ক করেন তিনি। পরিস্থিতি সামলাতে আইজি উত্তরবঙ্গের কাজের তদারকির জন্য স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের আইজি অজয় নন্দাকে বিশেষ দায়িত্ব দেন।
অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।