এসআইআর শুনানিতে ডাক পেলেন আমেরিকার জঙ্গলে লালকাঠ রক্ষার গবেষক শুভম মুখোপাধ্যায়ও। হুগলির চণ্ডীতলার ওই বাসিন্দা ইতিমধ্যে হাজিরাও দিয়েছেন। তাঁর ক্ষোভ, নির্বাচন কমিশন কম সময়ে কাজ শেষ করতে চাইছে। তাতে সাধারণ মানুষের হয়রানি হচ্ছে। নোটিস পেয়ে শুক্রবার তরুণ গবেষক বলেন, ‘‘আরও সময় নিয়ে করা যেত। কিন্তু ক্রমশ বিষয়টা হাস্যকর পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে।’’
অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন থেকে কবি জয় গোস্বামী, এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বেরা। চন্দ্রযান অভিযানে থাকা নাসার এক বিজ্ঞানী হাওড়ার বাসিন্দা। তাঁর নামেও এসআইআর নোটিস গিয়েছে। এ বার ডাক পেলেন চণ্ডীতলার বাকসার বাসিন্দা গবেষক শুভম।
বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজের ওই প্রাক্তনী কলকাতাস্থিত ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা এবং গবেষণা (আইআইএসইআর) থেকে পিএইচডি করেছেন। তাঁর বিষয় ছিল তরাই তৃণভূমির গাণিতিক মডেল তৈরি। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে ১২টি জঙ্গলে ২০২৪ সাল থেকে ঘুরে ঘুরে ‘লালকাঠ’ জরিপ করেছেন তিনি। শুভমের নেতৃত্বে ১৭ মাস ধরে চলা গবেষণার তথ্যপঞ্জি গ্রহণ করেছে মার্কিন প্রশাসন। সেই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে বিদেশের জার্নালে। রেডউড বা লালকাঠ সংরক্ষণে যা বিশেষ ভূমিকা নেবে।
এ হেন গবেষককেও এসআইআর শুনানিতে ডাকার পর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। শুভম অবশ্য শুনানিতে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘যে ভাবে তাড়াহুড়ো করে এবং যে পদ্ধতিতে এসআইআর হচ্ছে তাতে আমার আপত্তি আছে।’’ তাঁকে ডাকার কারণ জানাতে গিয়ে গবেষক বলেন, ‘‘আমার বাবার নাম বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করতে গিয়ে সমস্যা হয়েছে। আসলে নির্বাচন কমিশনে টেকনিক্যাল লোকজনের অভাব। চিন্তাভাবনা করার লোকজনেরও অভাব আছে মনে করি। এসআইআর হওয়া দরকার ছিল। কিন্তু সময় নিয়ে ঠিক পদ্ধতি মেনে সেটা হয়নি। সেই কারণেই এই সমস্যা হচ্ছে।’’
আরও পড়ুন:
তরুণ গবেষক জানান, তাঁর মতো অনেকেই অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এসআইআর নিয়ে শুভম তাঁর অভিজ্ঞতার কথা শোনাতে গিয়ে বলেন, ‘‘আমার পরিচিত কয়েক জন বিএলও আছেন। তাঁরা প্রথম দিকে খুব উৎসাহ নিয়ে কাজ করছিলেন। কিন্তু তাঁরাও বিরক্ত হয়ে গিয়েছেন। নোটবন্দির সময়েও লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তার পর আধার-প্যান ইত্যাদি লিঙ্ক করিয়েছি সেই লাইনে দাঁড়িয়ে। সরকার যা বলছে, সবই করছি। বোঝানো হয়েছে, দেশের ভালর জন্য করতে হবে। ফলাফল তো দেখতেই পাচ্ছি আমরা।’’ বিরক্তি ঝরে পড়ে গবেষকের গলায়। তাঁর সংযোজন, ‘‘অনেক বিশিষ্ট মানুষকে ডাকা হয়েছে শুনানিতে। তাঁদের অনেকে এসআইআর-এ কাজও করছেন। এটা ক্রমশ হাস্যকর হয়ে যাচ্ছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কমিশন, নাম দেখা যাবে কমিশনেরই ওয়েবসাইটে
-
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি
-
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা