Advertisement
E-Paper

ভাইফোঁটার বাজার মাত স্মার্টফোনে

সময় বদলেছে। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গিয়েছে উপহারের তালিকাও! আগে ভাইফোঁটায় বোনেদের শাড়ি বা চুড়িদার দেওয়ারই রীতি ছিল। বোনেরা জামা-প্যান্ট উপহার দিতেন ভাইদের। এখন অবশ্য সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে স্মার্ট ফোন, ক্যামেরা।

আনন্দ মণ্ডল ও অপ্রমেয় দত্তগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০১৬ ০০:১৯
তমলুক হাসপাতাল মোড়ের দোকানে ভাইফোঁটার কেনাকাটা।  ছবি: পার্থপ্রতিম দাস।

তমলুক হাসপাতাল মোড়ের দোকানে ভাইফোঁটার কেনাকাটা। ছবি: পার্থপ্রতিম দাস।

সময় বদলেছে। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গিয়েছে উপহারের তালিকাও!

আগে ভাইফোঁটায় বোনেদের শাড়ি বা চুড়িদার দেওয়ারই রীতি ছিল। বোনেরা জামা-প্যান্ট উপহার দিতেন ভাইদের। এখন অবশ্য সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে স্মার্ট ফোন, ক্যামেরা।

ভাইফোঁটার আগের দিন সোমবার তমলুক ছাড়াও, কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, নন্দকুমার, মহিষাদল, চণ্ডীপুরে ফোনের দোকানগুলিতে ছিল ভিড়। দাম যেমনই হোক, বোনের জন্য ভাল অ্যান্ড্রয়েড ফোন করতে খরচ করতে কসুর করছে না ভাইয়েরা। ভাইয়ের জন্য মোবাইল ফোন কিনতে তমলুকের রাধাবল্লভপুরের বাসিন্দা পিঙ্কি চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, ‘‘ভাইফোঁটায় নতুন জামা-প্যান্ট কিনে দেওয়ার রেওয়াজ বহুদিনের। এখন তো ভাইফোঁটায় ভাইদের আবদার বলতে নতুন মোবাইল ফোন। ভাইফোঁটার উপহারের জন্য এর চেয়ে ভাল কিছু ভাবতে পারছি না। আর উপহার ভাইয়ের পছন্দ হলে আমরাও খুশি।’’

Advertisement

ভাইফোঁটার আগে যে নিত্যনতুন ফোনের বিকিকিনি ভালই জমেছে তা স্বীকার করছে তমলুকের অনেক দোকানদারই। শহরের এক মোবাইল দোকানদার শঙ্কর কুণ্ডু বলছেন, ‘‘ভাইফোঁটায় আগে অনেকই ক্যামেরা উপহার দিত। বছর তিনেক আগে থেকে মোবাইল ফোন কেনার রেওয়াজ চালু হয়েছে।’’ কোলাঘাট শহরের নতুন বাজারের মোবাইল দোকানদার শৈবাল দাস বলেন, ‘‘শুধু ভাইদের নয়, দিদি বা বোনদেরও মোবাইল ফোন উপহার দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ৫-১০ হাজার টাকা দামের স্মার্টফোনই বেশি বিক্রি হচ্ছে।’’

তবে কি ভাইফোঁটায় ভাইদের নতুন পোশাক উপহার দেওয়ার প্রবণতা কমছে? তমলুক শহরের এক বস্ত্র ব্যবসায়ী জানান, আসলে দুর্গাপুজোর সময় প্রায় সকলেই নতুন পোশাক কেনে। বিশেষ করে অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েরা। ফলে ভাইফোঁটার উপহার হিসেবে অনেকেরই নতুন পোশাক পছন্দ নয়। তবে এখনও ভাইফোঁটা উপলক্ষে নতুন জামা-প্যান্ট, শাড়ি কেনার রেওয়াজ রয়েছে। তবে চাহিদা আগের চেয়ে
অনেকটাই কমেছে।

ভাইফোঁটা, আর মিষ্টি থাকবে না তা কি হয়। সাধারণ রসগোল্লা, চমচম তো আছেই তারই সঙ্গে বাজার মাতাচ্ছে কাজু গোলাপ, মালাই গ্লোরি, চকোলেট ক্রোসেন্ট, ম্যাঙ্গো কাঁচা গোল্লা, ফ্রুট কাপ। হলদিয়ার এক মিষ্টির দোকানের কর্মীর কথায়, ‘‘এখন তো সবেতেই থিমের ছোঁয়া। ভাইফোঁটায় সকলেই চায় চমকদার মিষ্টি কিনতে। তাই মিষ্টিতেই এখন থিমের
হাওয়া লেগেছে।’’ চকোলেট, ক্রিম, জেলি, ড্রাইফ্রুটস ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে বাহারি মিষ্টি। কেমন? মিষ্টি ব্যবসায়ী অভয়ানন্দ পাত্র জানান, ক্ষীর, চকোলেট, ড্রাইফ্রুটস ও চকোলেট নাটস দিয়ে তৈরি হয়েছে চকোলেট ক্রোসেন্ট। আর কলা পাতায় ছানা ও ক্ষীর স্টিম করে তৈরি করা হয়েছে ছানার পাতুড়ি। স্বাস্থ্যের কথা ভেবে বানানো হয়েছে সুগার ফ্রি মিষ্টিও। টাউনশিপের মিষ্টি ব্যবসায়ী দীপঙ্কর জানা বলেন, ‘‘কলকাতা থেকেও কাজু গোলাপ, মালাই গ্লোরি, ফ্রুট কাপ মিষ্টির অর্ডার এসেছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy