Advertisement
E-Paper

রিপোর্ট বিভ্রান্তি, ‘রোগী’ গেলেনই না হাসপাতালে

রিপোর্ট আসার আগেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় ফুল ব্যবসায়ীর।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২০ ০২:২৮
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

করোনা পরীক্ষায় পজ়িটিভ রিপোর্ট এসেছে। ‘আক্রান্ত’কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়িতে হাজির স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা। কিন্তু অ্যাম্বুল্যান্সে উঠতে নারাজ ‘রোগী’। তিনি দেখাচ্ছেন আরেকটি করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট। যাতে উল্লেখ রয়েছে, তিনি করোনায় আক্রান্ত নন!

এক ব্যক্তির দু’রকম রিপোর্ট ঘিরে সোমবার সন্ধ্যায় নাকানিচোবানি দশা স্বাস্থ্য কর্মীদের। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, পাঁশকুড়ার খণ্ডখোলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি গ্রামের এক ফুল ব্যবসায়ী গত ২৮ মে দিল্লি থেকে বাড়ি ফেরেন। গৃহ নিভৃতবাসে থাকার সময় তাঁর করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। ওই ব্যবসায়ীকে গত ৯ জুন পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ১০ জন করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে পাঠান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সেই রিপোর্ট আসার আগেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় ফুল ব্যবসায়ীর। গত ১১ জুন সুপার স্পেশ্যালিটি থেকে চণ্ডীপুর করোনা হাসপাতালে স্থানান্তিরত করা হয়। পরের দিন ১২ জুন সেখানে ফের ওই ব্যক্তির লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে বেলেঘাটা আইডিতে পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য। দ্বিতীয় পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট আসে ১৪ জুন। তার ভিত্তিতে এবং ব্যবসায়ীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সমস্যার সূত্রপাত এরপর থেকে। ১৫ জন ওই ব্যক্তির প্রথমবারের লালারস পরীক্ষার করোনা পজ়িটিভ রিপোর্ট আসে। পজ়িটিভ রিপোর্ট দেখে সোমবার সন্ধ্যায় পাঁশকুড়া ব্লক স্বাস্থ্য দফতরের একটি দল অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে ওই ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে বড়মা করোনা হাসপাতালে আনার জন্য যায়। কিন্তু ওই ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের লোকজন হাসপাতালে ভর্তি হতে আপত্তি জানান। তাঁদের যুক্তি, দ্বিতীয় পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তা হলে প্রথম প্রথম রিপোর্টের আর গুরুত্ব কোথায়! শেষে রোগীর পরিবারের আপত্তির কারণে অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন স্বাস্থ্য কর্মীরা।

চণ্ডীপুর মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর পবিত্র জানা বলেন, ‘‘পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটিতে ওই ব্যক্তির লালারসের নমুনা নেওয়া হয়েছিল, এটা আমাদের জানা ছিল না। রোগীর পরিবারের চাপেই একরকম আমরা নমুনা নিয়ে নাইসেডে পাঠাই। সেই রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। পরে জানতে পারি পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল যে নমুনা নিয়েছিল, তার রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে।’’

একবার রিপোর্ট পজিটিভ। একবার নেগেটিভ— কোন রিপোর্টের উপরে ভরসা করবে রোগীর পরিবার!

পাঁশকুড়া ব্লকের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য আধিকারিক তথা পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটির সুপার শচীন্দ্রনাথ রজক বলেন, ‘‘ওই ব্যক্তির প্রথম পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দেরি হয়েছে। উনি কোভিড পজ়িটিভ ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে মানে উনি এখন করোনা মুক্ত হয়েছেন।’’ সুপারের কথায়, ‘‘আসলে প্রথম পরীক্ষার রিপোর্টের আগে দ্বিতীয় পরীক্ষার রিপোর্ট চলে আসায় এই সমস্যা হয়েছে। ওই ব্যক্তি কোভিড মুক্ত হয়েছেন ধরে নিয়েই ওঁকে হাসপাতালে আর ভর্তি করা হয়নি। তবে তাঁকে গৃহ নিভৃতবাসে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

Coronavirus Health COVID-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy