শুভেন্দু অধিকারীর ‘খাসতালুক’ এগরার চোরপালিয়া সমবায় সমিতি নির্বাচনে রীতিমতো ধরাশায়ী হল বিজেপি। রবিবার এই সমবায়ের নির্বাচনে ৬৭টি আসনের মধ্যে তৃণমূল একাই দখল করেছে ৬৫টি আসন এবং বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে বাকি দু’টি আসন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে সবুজ আবির মেখে বিজয় উৎসবে মেতে ওঠেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার সকালে টানটান উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে এই সমবায়ের পরিচালন কমিটির ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সন্ধে নাগাদ ভোট গণনার শেষ হওয়ার পরে স্পষ্ট হয়ে যায় ছবিটা। এই নির্বাচনে বাম ও বিজেপি একজোট হয়ে লড়াইয়ের কথা শোনা গিয়েছিল। সিপিএমের জেলা নেতা ঝাড়েশ্বর বেরা বলেন, ‘‘জোটের অভিযোগ ঠিক নয়। তৃণমূল সন্ত্রাস করেছে, জিততে পারবে না ভেবে ভোট লুট করে জয়লাভ করেছে।’’
এগরার তৃণমূল বিধায়ক তরুণকুমার মাইতি বলেন, ‘‘সারা বছর তৃণমূল মানুষের পাশে থাকে। বিজেপির সন্ত্রাস এবং অন্যায় কাজে মানুষ বিরক্ত। তাই মানুষ এ বার উন্নয়নকেই বেছে নিয়েছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এই এলাকায় যতগুলি সমিতিতে ভোট হয়েছে, ততগুলি সমিতিতে আমরা জয়লাভ করেছি। ৩৬৫ দিন তৃণমূলের নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। ফলে আমরা প্রতিটি নির্বাচনে জয়লাভ করছি।’’
এ বারের নির্বাচনে বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে জুমকি গ্রাম পঞ্চায়েতের ফলাফল। এই অঞ্চলটি বিজেপির দখলে থাকলেও সেখান থেকে তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা প্রচুর ভোট পেয়েছেন বলে সূত্রের খবর। যদিও বিজেপি নেতা অরূপকুমার দাসের দাবি, “২০১২ সালে এই সমবায়ে শেষবার নির্বাচন হয়েছিল। সে সময় বিজেপির এক জনও প্রতিনিধি ছিলেন না। এ বার দু’জন বিজেপি প্রার্থী জিতেছেন। সেই হিসাবে এই ভোটে বিজেপির নৈতিক জয় হয়েছে বলাই যায়।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘চুরি-দুর্নীতিতে ভরা তৃণমূলের নেতারা হুমকি এবং ভোট লুটের মাধ্যমে এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।’’