প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় দলীয় জেলা কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপি নেতা-কর্মীদের একাংশ। শনিবার রাতে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসাবে তারক চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই কৃষ্ণনগর শহরে বিক্ষোভ শুরু করেন দলেরই নেতা-কর্মীরা। গভীর রাত পর্যন্ত পোস্ট অফিস মোড়ে দলীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়েও বিক্ষোভ দেখান। রবিবার আবারও বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কিছু পদাধিকারী ও কর্মীরা এসে দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রার্থী বদলের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। দলীয় জেলা কার্যালয়ে তালাওঝুলিয়ে দেন।
এ দিন বিক্ষোভকারীরা প্রার্থী পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এই তালা খুলতে দেবেন না বলেও জানিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, দল প্রার্থী পরিবর্তন না করলে কৃষ্ণনগর শহরেরই এক পুরনো নেতাকে নির্দল প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করিয়ে ভোটে লড়বেন বলেও হুমকি দিয়ে যান। এমনিতেই প্রার্থী ঘোষণা করতে দেরি হওয়ায় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা ছিলই। এ বারে এ ভাবে ক্ষোভ বিক্ষোভ সামনে আসায় কর্মীদের মনোবলেও জোর ধাক্কা লাগবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে প্রার্থী ঘোষণায় দেরি, তার উপর প্রার্থী ঘিরে গোষ্ঠী কোন্দল কৃষ্ণনগর উত্তর-এর মত ‘নিরাপদ’ আসন বিজেপির জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কিন্তু এমনটা হওায়ার কথা ছিল না। কারণ, গত লোকসভায় প্রায় ৫৩ হাজার এগিয়েছিল বিজেপি আর বিধানসভায় প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ায় বিজেপির কাছে এটা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ আসন বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। প্রথম দিকে এই কেন্দ্র থেকে কোনও ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী দেওয়া হবে বলে বিজেপির অন্দরে প্রচার চলছিল। সেই মতো একাধিক নাম বাতাসে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দলের নেতা-কর্মীরাও জয়ের বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু অন্যান্য রাজনৈতিক প্রার্থী ঘোষণা করার পরও দিনের পর দিন বিজেপি এই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা না করায় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম হতে থাকে।
দিন দুয়েক আগে থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে থাকে। কারণ, আচমকাই জানা যায় যে কোনও বাইরের হেভিওয়েট নয়, স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করতে চাইছে দল। সেই মতো স্থানীয় নেতৃত্বের তরফে প্রার্থী খোঁজাও শুরু হয়ে যায়। বিজেপির অন্দরে খবর, শহরের তেমন পরিচিত মুখ প্রার্থী হতে রাজি না হওয়ায় জেলা নেতৃত্বের তরফে তিন জনের নাম পাঠানো হয়। সেই তালিকায় তারক-সহ শহরের এক পুরনো বিজেপি কর্মী ও এক জন মহিলা জনপ্রতিনিধির নামও ছিল বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
শনিবার রাতে প্রার্থী হিসাবে পেশায় শিক্ষক নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি তারক চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করে দল। রাতেই বিজেপির নেতা-কর্মীদের একটা অংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সেই ক্ষোভ শুধু সমাজমাধ্যমে সীমাবদ্ধ না থেকে রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষুব্ধদের অনেকেরই দাবি, মোটা টাকার বিনিময়ে জেলা নেতৃ্ত্ব এই আসনটি বিক্রি করে দিয়েছে। কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের মণ্ডল ৪ এর সভাপতি দীপঙ্কর মণ্ডল বলেন, ‘‘জেলা সভাপতি-সহ অন্যান্য নেতা দলের আসনগুলো বিক্রি করছে।”
তাঁরা জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাসকে তৃণমূলের দালাল বলে স্লোগানও দিতে থাকেন। মণ্ডল ২ এর সভাপতি বাপি শীল বলেন, “আমরা হারতে চাই না। আগে দেখি দল প্রার্থী পরিবর্তন করে কিনা। তা না করলে আমরা আমাদের মত ব্যবস্থা নেব।” বিজেপির নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অর্জুন বিশ্বাসকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। আর প্রার্থী তারক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের বিজেপি পরিবার। সংসারে যেমন থাকে তেমনই ছোটখাটো মনোমালিন্য হয়তো আছে। আগামী দিনে বৈঠকের মাধ্যমে সবার সঙ্গে কথা বলব। সবাই পাশে থাকবেন। কাঁধে কাঁধ দিয়ে লড়াই করে দলকে জেতাবেন।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)