E-Paper

মাসের শেষ হলেও জমেছে ইদের বাজার 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এমনিতেই কুরবানি নিয়ে মন খারাপ হয়ে আছে সাধারণ মানুষের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০৭:০৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বিগত কয়েক বছর ইদের মরসুমে লক্ষ্মীর ভান্ডারেই লক্ষ্মী লাভ হয়েছে ব্যবসায়ীদের। তাদের দাবি, ইদের আগে মাস কয়েকের ওই ভান্ডারের টাকা জমিয়ে বাজার করতেন পরিবারের মহিলারা। কিন্তু এ বছর একেবারে ঠিক আগের মাসে লক্ষ্মীর ভান্ডারের অর্থ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তার প্রভাব পড়েছে বাজারেও। তার উপরে মাসের শেষ। বেতন পেতে আরও কয়েক দিন। তবু জমছে জেলার ইদের বাজার।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এমনিতেই কুরবানি নিয়ে মন খারাপ হয়ে আছে সাধারণ মানুষের। তার একটা প্রভাব পড়েছে বাজারে। তার ওপরে লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজার মন্দার একটা বড় কারণ। যুব সাথী প্রকল্প চালু থাকলেও কিছুটা চাঙ্গা হত বাজার বলেই দাবি ব্যবসায়ীদের। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে ইদের বাজার জমেছে। তবে বাজারটা অনেকটাই দখল করেছে আধুনিক শপিংমল।

রানিনগরের বস্ত্র ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘‘বিগত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি মহিলাদের মধ্যে ইদের বাজার করার প্রবণতা অনেকটাই বেড়েছিল। বাড়ির কর্তারা অর্থ না দিলেও তারা নিজের জমানো লক্ষ্মীর ভান্ডারের পয়সা থেকে বাজার সারত। এ বার ইদের আগে সেই টাকাটা না পাওয়ার ফলেও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা।"

জলঙ্গির ব্যবসায়ী বাপি বিশ্বাস বলেন, ‘‘কেবল ইদ নয়, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকেই মহিলাদের মধ্যে কেনাকাটার একটা বাড়তি ঝোঁক দেখা গিয়েছিল। আর ইদের সময় গুলোতেও সেই প্রবণতা লক্ষ্য করতাম আমরা। পরিবারের কর্তারা আর্থিক সাহায্য না করলেও মহিলারা বাজারে আসছেন কেনাকাটা করতেন।’’

ইদের বাজার মানেই বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ডোমকল এলাকার বস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছে কেনাকাটার সেরা সময়। যদিও ইদুল ফিতরের সময় এই কেনাকাটা সবথেকে বেশি হয়। কিন্তু বকরি ইদেও বেশ ভাল কেনাবেচা হয় ডোমকল জুড়ে। কিন্তু সেটাই এবার একেবারে মাঠে মারা গিয়েছে নানা কারণে। ৫০ বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া প্রবীণ ব্যবসায়ীরাও বলছেন এমন পরিস্থিতির সামনে আগে কখনও হতে হয়নি ইদের মরসুমে। ডোমকল ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক আফাজ উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘‘এ বছর ইদের সময়টা এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে যা অকল্পনীয়। প্রত্যেকটা মানুষেরই মন খারাপ আমাদের এলাকায়।’’

কিন্তু যারা এই বাজার করেন সেই মহিলারা কি বলছেন? জলঙ্গির বাসিন্দা মৌসুমী খাতুন বলছেন, ‘‘প্রতিবছর ইদের আগে মাস দুই তিনেকের টাকা জমিয়ে আমরা নতুন পোশাক কিনি, এবার কুরবানি নিয়ে আনন্দটাই মাঠে মারা গিয়েছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Domkal

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy