E-Paper

নাম বাদে বিদেশি তকমা নয়, স্বস্তি সুপ্রিম রায়ে

নদিয়া জেলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে।

সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০৭:০৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোটার তালিকায় নাম না থাকা মানেই ‘বেনাগরিক’ নয়— বুধবার সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর নদিয়ার হাজার হাজার পরিবার কার্যত স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে। তবে, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে বিজেপি সরকারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই এবং সিএএ বা আপিল ট্রাইবুনালে আবেদনও করেননি তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনা বা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। বিরোধীদের প্রশ্ন, শুধু ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে কি কাউকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যায়? এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর।

নদিয়া জেলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। প্রথমেই মৃত, অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত ও অন্যান্য কারণে প্রায় ২ লক্ষ ১৬ হাজার নাম বাদ গিয়েছিল। এর পর বৈধ নথি দেখাতে না পারায় অবৈধ ভোটার হিসাবে প্রায় ৬২ হাজারের নাম বাদ যায়। পরে তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির কারণে বিবেচনাধীন হিসাবে প্রায় ২ লক্ষ ৮ হাজারের মতো নাম বাদ যায়। অর্থাৎ সব মিলিয়ে নদিয়া জেলায় প্রায় ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষের অস্তিত্ব থাকা সত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। তাঁরা এবং পরিবার চূড়ান্ত অস্বস্তি নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

ভোটার তালিকায় নাম না থাকা মানেই সেই ব্যক্তি ‘বেনাগরিক’ হয়ে গিয়েছেন বলেও অনেকে ধরে নিচ্ছিলেন। আর সে ক্ষেত্রে সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা না মেলা তো বটেই, দেশছাড়া হওয়ার আতঙ্কও রয়েছে অনেকের। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় তাঁদের খানিক আশ্বস্ত করল। যদিও নাগরিকত্বের ফয়সালা এতে হচ্ছে না, তা শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনই স্থির করবে। তবে এ-ও কিছুটা মন্দের ভাল। চাপড়ার হাঁটরার বাসিন্দা আজিমা খাতুন মোল্লা বলেন, “আমার পরিবারে একমাত্র আমার নামই বাদ গিয়েছে। ভয়ে আছি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কিছুটা স্বস্তি পেলাম।”

বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে বার বার দাবি করা হয়েছে যে এসআইআর আসলে ‘পিছনের দরজা’ দিনে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কৌশল। এ দিন শীর্ষ আদালতের রায়ে তারাও খুশি। সিপিএমের নদিয়া জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুমিত বিশ্বাস বলেন, “আমরা এত দিন এটাই বলে আসছিলাম। বিজেপি বৈধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বেনাগরিক করতে চেয়েছে, সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে চেয়েছে। তাঁদের চক্রান্ত ব্যর্থ হল।” তৃণমূলের কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, “আদালতের এই রায়ের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বেনাগরিক করার যে চক্রান্ত রুখে দেওয়া গেল। এখন আর ভোটার তালিকায় নাম না থাকার ছুতো করে কাউকে সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।” তবে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে বিজেপি। দলের নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস বলেন, “আদালত ঠিক কী রায় দিয়েছে সেটা না দেখে এবং দলের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা না বলে কোনও মন্তব্য করব না।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Krishnanagar

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy