বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে ফের তিন দালালকে গ্রেফতার করল ধানতলা থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম কাশেম শেখ, আশিক শেখ ও আবুজেল মণ্ডল। গত মঙ্গলবার রাতে তাদের গাংনাপুর পুটখালি ও ধানতলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার রানাঘাট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিন পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত কাসেম ও আশিক গাংনাপুরের আঁইশমালির বাসিন্দা। আবুজেলের বাড়ি ধানতলায়। দীর্ঘ দিন ধরেই তারা অর্থের বিনিময়ে ভারতে অনুপ্রবেশের সহযোগিতার কাজে যুক্ত। সম্প্রতি কয়েকটি অনুপ্রবেশের ঘটনায় তদন্ত নেমে বাংলাদেশিদের জেলা করে পুলিশ ওই তিন জনের খোঁজ পায়। পুলিশের দাবি, সাধারণত নির্মাণ শ্রমিক কিংবা টোটো চালকের পেশায় যুক্ত থাকলেও আড়ালে তারা মোটা টাকার বিনিময়ে আন্তঃরাষ্ট্র মানব পাচারের কাজ করছিল।
পুলিশের দাবি, গত বছর জুলাই-অগস্টে বাংলাদেশ অশান্ত হওয়ার পরেই অনুপ্রবেশের চেষ্টা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও দালাল গ্রেফতার হয়েছে। শুধু হাঁসখালি, ধানতলা এবং গাংনাপুর থানা এলাকা থেকেই ওই দুই মাসে গ্রেফতার হয়েছে ৬৫ জন অনুপ্রবেশকারী ও ৩৩ জন দালাল গ্রেফতার হয়। ২০২৪ সালে অনুপ্রবেশের মোট ৫২টি মামলা দায়ের করেছে রানাঘাট পুলিশ।
রানাঘাট পুলিশ জেলার এক কর্তার কথায়, "ধানতলা ও হাঁসখালি থানা এলাকায় ১০ কিলোমিটারের বেশি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নেই। অরাজক বাংলাদেশে অনেকেই কর্মহীন হয়েছেন। তাঁরা এ দেশে চলে আসার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন অনুপ্রবেশকারীকে জেরা করে জানা গিয়েছে, ২০ হাজার বা তার বেশি টাকার বিনিময়ে ওই দালালদের সাহায্যে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে এসেছিলেন।’’
রানাঘাটের ডেপুটি পুলিশ সুপার (সীমান্ত) সোমনাথ ঝা বলেন, "বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও দালালদের ধরতে অভিযান চলছে। সীমান্ত এলাকায় দালাল-চক্র নির্মূল করাটাই আমাদের লক্ষ্য।" গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরের পরে জানুয়ারিতে অনুপ্রবেশের হার অনেকটাই নিম্নমুখী হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)