Advertisement
E-Paper

ধস সরল সিকিমের রাস্তায়

বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় ধস সরিয়ে ফের যান চলাচল শুরু হল সিকিমগামী জাতীয় সড়কে। ধসের কারণে গত বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ ছিল। টানা বৃষ্টির জেরে কালিম্পঙের রম্ভির শ্বেতিঝোরা এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই ছোট পাথর গড়িয়ে রাস্তায় পড়তে শুরু করে। সন্ধ্যের পরে পাহাড় থেকে বড় ধস নামায় রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০১৫ ০১:২৬
শ্বেতিঝোরাতে ধস সারিয়ে খুলেছে রাস্তা। — নিজস্ব চিত্র।

শ্বেতিঝোরাতে ধস সারিয়ে খুলেছে রাস্তা। — নিজস্ব চিত্র।

বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় ধস সরিয়ে ফের যান চলাচল শুরু হল সিকিমগামী জাতীয় সড়কে। ধসের কারণে গত বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ ছিল। টানা বৃষ্টির জেরে কালিম্পঙের রম্ভির শ্বেতিঝোরা এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই ছোট পাথর গড়িয়ে রাস্তায় পড়তে শুরু করে। সন্ধ্যের পরে পাহাড় থেকে বড় ধস নামায় রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সিকিমের সঙ্গে যোগাযোগ। সব গাড়িগুলি দার্জিলিঙের রাস্তা ঘুরে চলায় তীব্র যানজট হয়। বৃষ্টি চলতে থাকায় পাহাড় থেকে পাথর গড়াতেই থাকে। সে কারণেই শুক্রবার দিনভর ধস সরানো সম্ভব হয়নি বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

শনিবার দুপুরের পরে বৃষ্টি কমায় ধস সরামনোর কাজ শুরু হয়। এ দিন বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ ফের যান চলাচল শুরু হয় জাতীয় সড়কে। প্রশাসন সূত্রে অবশ্য জানানো হয়েছে, ছোট পাথর পড়া অব্যাহত রয়েছে। বিকেলের পরে মাঝেমধ্যে পাথর পড়লেও, সেগুলি সরিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সিকিমগামী এই জাতীয় সড়কটির নম্বর অবশ্য বর্তমানে ৩১ থেকে বদলিয়ে ১০ নম্বর করা হয়েছে। দার্জিলিঙের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘‘বৃষ্টির কারণে ক্রমাগত ছোট বড় পাথর গড়িয়ে পড়ছিল। তাই ধস সরানোর কাজ শুরু করেও রাস্তা পুরোপুরি পাথরমুক্ত করা যায়নি। বৃষ্টি থামায় ধস নামা বন্ধ হয়েছে, তার ফলেই রাস্তা পরিষ্কার করা গিয়েছে।’’

দেড় দিনেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকায়, দু’দিকে গাড়ির লম্বা লাইন দাঁড়িয়ে যায়। পর্যটকদের গাড়ি থেকে শুরু করে পণ্যবাহী ট্রাকও লাইনে ছিল। এ দিন বিকেলে রাস্তা খোলার পরে শুরু হয় তীব্র যানজট। সন্ধে পর্যন্ত যানজট ছিল। যানজট মুক্ত করার জন্য বাড়তি পুলিশবাহিনী নামানো হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। ধসের কারণে শুধু সিকিম নয়, শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পঙের সরাসরি যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়। ছোট গাড়িগুলিকে অবশ্য পেশক বা লাভা এলাকা দিয়ে ঘুরপথে পাঠানো হলেও, বড় গাড়িগুলি জাতীয় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকে। জাতীয় সড়কের ধস সরাতে সেনাবাহিনী এবং সীমান্ত সড়ক সংস্থা তথা বিআরও-র সাহায্যও নেওয়া হয়েছে। রাস্তার অন্তত ১০০ মিটার এলাকাজুড়ে ধস নামে। ধসে রাস্তা পুরোপুরি ঢেকে যায়। খাদের পাশে রাস্তার কিছুটা অংশ ভেঙেও যায়। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, যেহেতু বর্ষার মরশুম চলছে, তাই ওই এলাকায় নজর রাখা হয়েছে। ফের কোথাও ধস নামলে জরুরি ভিত্তিতে সরানোর জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। বিআরও-এর তরফে, আপাতত রাতে জাতীয় সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। এ দিন বৃষ্টিতে দার্জিলিঙের জামুনিতেও রাস্তা বসে যায়। আটকে যায় গাড়ি।

অন্য দিকে, সেবকে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের প্রায় ১৫ মিটার রাস্তার নিচে মাটি সরে যাওয়ায় ফের বিপর্যয়ের উপক্রম হয়েছে। গত তিনদিন ধরেই করোনেশন সেতুর ডুয়ার্সের প্রান্তে গণেশ ঝোরার কাছে একটি কজওয়ের তলার থেকে মাটি সরে যেতে থাকায় জাতীয় সড়ক দুর্বল হতে থাকে। গত শুক্রবার থেকে সড়ক মেরামতির কাজ শুরু হলেও পুরো কাজ শেষ হয়নি। দুর্বল এলাকাটির একপাশ দিয়েই যান চলাচল করলেও, মেরামতির কাজ শেষ না হলে সড়কের ওই অংশ ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজ্যের পূর্ত দফতরের জাতীয় সড়ক বিভাগের (৯) নির্বাহী বাস্তুকার অজয় সিংহ বলেন, ‘‘দুর্বল অংশের মেরামতি শুরু করে দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই কাজ শেষ হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy