Advertisement
E-Paper

পিএফ জমা পড়েনি, উদ্বেগ

প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) নিয়ে কর্পোরেট সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় অশনি সঙ্কেত দেখছে চা শ্রমিক সংগঠনগুলি। ছোট-মাঝারি চা সংস্থার বিরুদ্ধে পিএফ বকেয়া রাখার অভিযোগ উত্তরবঙ্গে নতুন কোনও ঘটনা নয়। সম্প্রতি একটি কর্পোরেট চা বাগান সংস্থার বিরুদ্ধে পিএফ-এর টাকা জমা না করার অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৫ ০২:৫২

প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) নিয়ে কর্পোরেট সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় অশনি সঙ্কেত দেখছে চা শ্রমিক সংগঠনগুলি। ছোট-মাঝারি চা সংস্থার বিরুদ্ধে পিএফ বকেয়া রাখার অভিযোগ উত্তরবঙ্গে নতুন কোনও ঘটনা নয়। সম্প্রতি একটি কর্পোরেট চা বাগান সংস্থার বিরুদ্ধে পিএফ-এর টাকা জমা না করার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক পিএফ দফতরের দুর্নীতি দমন শাখার তরফে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংস্থার দার্জিলিঙের একটি বাগানে শ্রমিকদের থেকে পিএফ-এর টাকা কেটেও জমা করা হয়নি বলে পিএফ দফতরের অভিযোগ। সেই টাকার পরিমাণ প্রায় ১৪ লক্ষ। পিএফের অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থার ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছে দার্জিলিং জেলা পুলিশ। তবে শ্রমিকদের থেকে পিএফের টাকা কেটে জমা না দেওয়ার পরিমাণ লক্ষাধিক হলেও, সংস্থার নিজেদের বকেয়ার পরিমাণ অন্তত কয়েক কোটি টাকা বলে অভিযোগ। এই ঘটনাতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে উত্তরবঙ্গের ডান-বাম চা শ্রমিক সংগঠনগুলির মধ্যে।

পিএফ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা বাগান সংস্থার বকেয়া পিএফের পরিমাণ চলতি বছরের শুরুতেই একশো কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বকেয়া পিএফ আদায় করতে বিভিন্ন বাগানে নিয়মিত অভিযানও চালানো হয় বলে সংস্থার দাবি। সংস্থাকে বকেয়া শোধ করতে আইনি নোটিসও নিয়মিত পাঠানো হয়। বছর পাঁচেক আগে পিএফ বকেয়া রাখার অভিযোগে একটি চা বাগান সংস্থার ম্যানেজারকেও গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

পিএফ দফতরের কিছু আধিকারিকের দাবি, অভিযান চালিয়ে চা বাগানের কোনও সম্পত্তি ‘আট্যাচ’ করা অথবা অভিযোগ দায়ের করা ছাড়া অন্য আইনি ‘ক্ষমতা’ তাঁদের নেই। কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযান বা অভিযোগের দায়েরের মতো আইনি পদক্ষেপ করা হলে বকেয়া পিএফ শোধ করার প্রবণতাও লক্ষ করা যায়। যদিও, শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি এতদিন যা হয়েছে, সবই ছোট বা মাঝারি বাগানগুলির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল। বড় কর্পোরেট সংস্থার ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপ এই প্রথম বলে শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি।

দার্জিলিঙের জেলা পুলিশ সুপার অমিত জাভালগি বলেন, ‘‘অভিযোগের ভিত্তিতে মালিকপক্ষকে নোটিস দিয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। ওঁরা কিছু বকেয়া পরিশোধ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পিএফ ছাড়াও আরও বেশ কিছু পাওনা বকেয়া রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে।’’

এই কর্পোরেট সংস্থার ১৬টি চা বাগান রয়েছে উত্তরবঙ্গে। জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার এবং দার্জিলিং জেলায় থাকা সংস্থার বাগানগুলিতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২৭ হাজার। শ্রমিক পরিবারের সদস্য ধরলে ১৬টি বাগানের বাসিন্দার সংখ্যা লাখ ছুঁইছুঁই।

বেশ কিছু দিন ধরেই সংস্থার সব বাগানেই পাওনা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। এর মধ্যে তরাইয়ের গঙ্গারাম বাগানেই বকেয়া পিএফের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬৫ লক্ষ। উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালগছ চা বাগানে বিভিন্ন বকেয়ার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। পিএফ ছাড়াও, রেশন, মজুরি, তলব সহ অন্য পাওনাও বকেয়া রয়েছে। সব ক’টি বাগানেই অচলাবস্থা চলছে বলে অভিযোগ। শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, এই সংস্থার বাগানগুলির উপরেই ডুয়ার্সের কয়েকটি জনপদের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কাঠামো অনেকাংশে নির্ভরশীল। দ্রুত বাগানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এই সব এলাকাগুলিতে বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে বলে শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি।

তৃণমূলের চা শ্রমিক সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি অলোক চক্রবর্তী বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরেই ওই সংস্থার বাগান নিয়ে আমরা চা পর্ষদ এবং কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রীকে জানিয়েছি। শ্রমিকদের থেকে পিএফের টাকা নিয়েও জমা না করার প্রবণতা অনেকদিন ধরেই ছিল। এবার তা নিয়ে আইনি পদক্ষেপ হয়েছে।’’ অলোকবাবুর প্রশ্ন, ‘‘বাগানগুলিতে এখন রাজ্য সরকার সস্তা দরে চাল দিচ্ছে। তবে তা দিয়ে কত দিন চলবে?’’

তৃণমূল ছাড়া অন্য ২৪টি চা শ্রমিক সংগঠন নিয়ে তৈরি যৌথ ফোরামের আহ্বায়ক জিয়াউল আলম বলেন, ‘‘এত বড় একটি কর্পোরেট সংস্থার এমন প্রবণতা খুবই আশঙ্কাজনক। বিশেষত ডুয়ার্সের বীরপাড়া, ফালাকাটা এবং মাদারিহাট এলাকার পুরো সমাজ অর্থনীতি ওই সংস্থার বাগানের শ্রমিকদের উপর নির্ভরশীল। দ্রুত বাগানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে উত্তরবঙ্গের চা বলয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy