Advertisement
E-Paper

শহর থেকে গ্রাম, ভিড় সন্ধে থেকেই

মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দর্শনার্থীর ঢল নামল উত্তরের সাত জেলায়। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই প্রায় একই ছবি। বড়, মাঝারি, ছোট সব মণ্ডপে ভিড়। কোচবিহার থেকে ইসলামপুর, শিলিগুড়ি থেকে রায়গঞ্জ, জলপাইগুড়ি সর্বত্রই দেখা গিয়েছে এক চিত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৫ ০২:৩৪
কোচবিহারে যানজট। —নিজস্ব চিত্র।

কোচবিহারে যানজট। —নিজস্ব চিত্র।

মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দর্শনার্থীর ঢল নামল উত্তরের সাত জেলায়। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই প্রায় একই ছবি। বড়, মাঝারি, ছোট সব মণ্ডপে ভিড়। কোচবিহার থেকে ইসলামপুর, শিলিগুড়ি থেকে রায়গঞ্জ, জলপাইগুড়ি সর্বত্রই দেখা গিয়েছে এক চিত্র। সন্ধে থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোড, দেশবন্ধুপাড়ায় ভিড় দেখা গিয়েছে। ভিড় ছিল জলপাইগুড়ির কদমতলা, পান্ডাপাড়া, রায়কতপাড়াতেও।

ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় ইসলামপুরের বেশ কিছু পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন হয়েছে। এ দিন সন্ধ্যা থেকেই রায়গঞ্জ শহরের সুদর্শনপুর, শাস্ত্রী সঙ্ঘ, অমর সুব্রত, অনুশীলনী, বিধাননগর, দেহশ্রী, বিদ্রোহী, প্রতিবাদ, ঐক্য সম্মেলনী, বিপ্লবী, চৈতালী ও রবীন্দ্র ইনস্টিটিউশন ক্লাবের পুজো মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে। শিলিগুড়িমোড় থেকে কসবা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন রাস্তায় এদিন প্রচুর দর্শনার্থীদের হেঁটে ও টোটোতে চেপে বিভিন্ন মণ্ডপে যেতে দেখা যায়। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করে যান নিয়ন্ত্রণের কাজ করা হয়। ইটাহারের উল্কা ক্লাবের পুজোর উদ্বোধন করেন জেলাশাসক রণধীর কুমার ও পুলিশ সুপার সৈয়দ ওয়াকার রেজা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ক্লাবের তরফে টলিউড অভিনেত্রী পায়েল সরকার ও মিতা চট্টোপাধ্যায়কে এনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কোচবিহারের রাস্তাতেও ভিড় দেখা গিয়েছে। টোটো নিয়ন্ত্রণ শুরু হয় সন্ধ্যে ৬ টা থেকেই। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। তা সামাল দিতে ষষ্ঠীতেই হিমসিম খেতে হল পুলিশকে। স্টেশন মোড়, মড়াপোড়া চৌপথি, ভেনাস স্কোয়্যার, সাগরদিঘির চত্বর থেকে শুরু করে হরিশ পাল মোড়, বিশ্বসিংহ রোডে ভিড় ঊপচে পড়ে। নতুন বাজারের কাছে ভেনাস স্কোয়্যার পুজো মণ্ডপের ঢোকার রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এক পুলিশ কর্মী বলেন, “স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে টোটো গাড়ি নিয়ে গলিতে ঢোকা যাবে না। আপ্রাণ সে চেষ্টা করে যাচ্ছি। টোটো গাড়ির বহু জায়গায় যানজট তৈরি করে।” কোচবিহারের পুলিশ সুপার রাজেশ যাদব বলেন, “ষষ্ঠী থেকেই যান নিয়ন্ত্রণ শুরু করা হয়েছে। পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র রয়েছে। সব জায়গায় পরিস্থিতি দেকেহ পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এক পুলিশ আধিকারিক মজা করে বলেন, “ষষ্ঠীতে আমরা পাশ। দেখা যাক সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে কি হয়।”

কোচবিহার জেলায় ৪৩৩ টির উপরে দুর্গাপুজো হচ্ছে। শহরে এবার পঞ্চাশ বছর উপলক্ষ্যে বেশ কয়েকটি পুজো বিগ বাজেটের। পঞ্চমীতেই ওই পুজোগুলির উদ্বোধন হয়েছে। এ ছাড়া অনেক পুজো পঞ্চমীতেই উদ্বোধন হয়েছে। বাকি পুজোগুলির ষষ্ঠীতে উদ্বোধন হয়। পঞ্চমী থেকেই পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় শুরু হয়। অবস্থা বুঝতে পেরে ওই দিন গাইড ম্যাপ উদ্বোধন করে প্রস্তুতির কথা জানায়। যে পুজো মণ্ডপের সামনে বেশি ভিড় হতে পারে সেখানে পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র করা হয়। এ ছাড়াও শহরে প্রচুর পরিমানে মহিলা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশ রয়েছে। ভিলেজ ও সিভিকদেরও রাস্তায় নামানো হয়েছে। শহরের ৩২টি বড় পুজোর মধ্যে এবারে পাঁচটি পুজোর সুবর্ণ জয়ন্তী। ভেনাস স্কোয়্যার, তল্লিতলা ইউনিট, পান্থশালা ইউনিট, বিধান সঙ্ঘ ও রবীন্দ্রনগরের এ বারে পঞ্চাশ বছর। এ দিন সন্ধে থেকেই ওই মণ্ডপগুলির সামনে ভিড় হতে শুরু করে। তল্লিতলা যাওয়ার রাস্তায় মড়াপোড়া মোড়ে যান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রায় কুড়ি জন পুলিশ কর্মী নামিয়ে সমস্ত গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পুজো মণ্ডপে জাওয়ার রাস্তায় গাড়ি ও বাইক চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই চিত্র ছিল স্টেশন মোড়, নতুন বাজার, হরিশ পাল মোড় সর্বত্র। সন্ধ্যা সাতটার পর থেকেই মানুষের ঢল নামে। স্টেশন মোড়ের কাছে পান্থশালা ইউনিটের পুজো মণ্ডপের সামনে সন্ধে থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে। স্টেশন মোড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে থাকা জনা পাঁচেক পুলিশ কর্মী হিমসিম খেয়ে যায়। সেখানে একটি টহলদারি ভ্যান পাঠিয়ে আরও পুলিশ কর্মী নামানো হয়। একই অবস্থা হয় হরিশ পাল মোড়েও। পুলিশের নির্দেশের পরেও বেশ কিছু গাড়ি ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যানজট তৈরি করে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy