বেআইনি ভাবে সীমান্তের কাঁটা তারের বেড়া পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকে ধরা পড়ে গেলেন ২৮ জন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের হাতে ধরা পড়ে যান তাঁরা। মঙ্গলবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি থানার কাদিরগছ সীমান্ত এলাকাতে তাঁদের ধরার পড়ে বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অনুপ্রবেশকারীরা সকলেই বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা। ধৃতদের কাছ থেকে দুটি ভারতীয় ভোটার পরিচয়পত্র, কয়েকটি মোবাইল, বাংলাদেশ ও এদেশের মোবাইলের সিম সহ নগদ প্রায় ১২ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। তবে এদেশের ভোটের পরিচয় পত্র ও সিম কোথা থেকে অনুপ্রবেশকারীরা পেল তা তদন্ত করে দেখছে সীমান্ত রক্ষাবাহিনী। বিএসএফের কিসানগঞ্জের ডিসিজি প্রবীণকুমার রঞ্জন বলেন, ‘‘ওই অনুপ্রবেশকারীরা ইটভাটায় কাজের জন্য যাচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারা গিয়েছে। এদিন তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।’’
সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর জওয়ানেরা জানিয়েছেন, ধৃতদের বয়স ২৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে। এক জনের বয়স ৪০। অনুপ্রবেশকারীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কাজ না পেয়েই তাঁরা এদেশে এসেছিলেন ইটভাটায় কাজের জন্য। এদিন রাতে তাদের এই সীমান্ত পার করিয়ে তাদের বাসে করে ডালখোলা নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে কাটিহার হয়ে দিল্লি, লুধিয়ানা, উত্তরপ্রদেশে ইটভাটায় কাজের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওযার কথা ছিল। ১৫০ টাকার হাজিরায় ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করানোর জন্য তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিএসএফ এর জওয়ানেরা জানিয়েছে, এদিন কাটাতারের বেড়া পার করার জন্য ওপার থেকে বেড়ার উপর একটি বাঁশের মই ও কাঠের পাটাতন দিয়েছিল তারা। গোপনসূত্রে খবর পেয়ে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল এক আধিকারিকের নেতৃত্বে বিএসএফ জওয়ানেরা। দুই মিনিটের মধ্যে ২৮ জন বাংলাদেশি এপারে পার হতেই জওয়ানেরা তাদের চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে। তবে কারা তাদের সেখান থেকে ভারতের নানা জায়গায় নিয়ে যেত, তাদের কোনও হদিস পায়নি বিএসএফ। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মহম্মদ বাদল, আনওয়ার, সাদ্দাম হুসেনরা জানিয়েছেন, বাড়িতে অভাবে প্রায় অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। পরিবারের লোকেদের ছেড়ে তাই এদেশে এসেছেন কাজের উদ্দেশ্যে। তবে তাঁরা স্বীকার করেন, কাঁটাতার টপকে এপারে আসা বেআইনি। পারাপারের সময় বাংলাদেশের জওয়ানেরা তাদের লক্ষই করেনি বলে জানিয়েছেন তাঁরা।