এমসে চাকরি-কাণ্ডে বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানার মেয়ে মৈত্রী দানাকে তৃতীয় বার জিজ্ঞাবাদ করল রাজ্য গোয়েন্দা সিআইডি। বুধবার বাঁকুড়া শহরের কানকাটা এলাকায় বিধায়কের বাড়িতে যান সিআইডি আধিকারিকরা। সেখানে নীলাদ্রির কন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিযোগ করেছেন ওই বিজেপি বিধায়ক।
চলতি বছরের ১ এপ্রিল কল্যাণীর এমসে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসাবে যোগ দেন নীলাদ্রিশেখরের মেয়ে মৈত্রী। পরবর্তী কালে মুর্শিদাবাদের এক চাকরিপ্রার্থী পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ জানান, মৈত্রীর চাকরির ব্যাপারে প্রভাব খাটানো হয়েছে। তার তদন্তভার নেয় সিআইডি। গত ১৫ জুলাই এবং ১ আগস্ট দুই দফায় এ নিয়ে সিআইডির তদন্তকারী দল নীলাদ্রির বাড়িতে হাজির হয়ে তাঁর মেয়ে মৈত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেই জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্যে অসঙ্গতি মেলায় বুধবার আবার সিআইডির ৪ সদস্যের একটি তদন্তকারী দল নীলাদ্রিশেখরের বাড়িতে যান বেলা ২টো ১৫ মিনিট নাগাদ। সেখানে বেলা ৩টে ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলে জিজ্ঞাসাবাদ।
আরও পড়ুন:
-
তাঁকে নিয়ে ‘কুমন্তব্য’ করেছেন শুভেন্দু, থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করলেন মন্ত্রী বিরবাহা
-
এসএসসি দুর্নীতি তদন্তে ঢিলেমি! সিবিআইয়ের সিট পুনর্গঠনের নির্দেশ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের
-
বাতিল হল ৩৬৩টি মনোনয়ন! মোদী-শাহের রাজ্যে প্রথম দফার ভোটে প্রার্থীর সংখ্যা ৯৯৯
-
বিশ্বকাপের সেরা একাদশ জানাল আইসিসি! ভারতের ক’জন দলে? কী দল বেছেছিল আনন্দবাজার অনলাইন
মৈত্রীর আইনজীবী শুভাশিস দে বলেন, ‘‘দিন কয়েক আগে বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানাকে ভবানী ভবনে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। সেই জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা তথ্য যাচাই করতেই বুধবার মৈত্রী দানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গোটা জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়ার ভিডিয়ো রেকর্ডিং করেছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করেছেন মৈত্রী দানা।’’
মেয়েকে কয়েক বার সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধেছেন বিজেপি বিধায়ক। নীলাদ্রি বলেন, ‘‘এ ভাবে আমাকে আটকে রাখা যাবে না। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চলছে। রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের যে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি চলছে তা ঢাকা দেওয়ার জন্য এ সব করা হচ্ছে। ঠিকাদারি সংস্থায় কাজের জন্যও কি মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে?’’
নীলাদ্রির অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দিব্যেন্দু সিংহ মহাপাত্র বলেন, ‘‘সিবিআই যখন আমাদের দলের নেতাদের তদন্তের নামে হয়রান করছে তখন আমাদের নেতাদের দোষী বলছে বিজেপি। আর সিআইডি তদন্ত করলেই রাজনীতির গন্ধ খুঁজছেন তাঁরা।’’ আইন আইনের পথেই চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।