• রামপুরহাট শহরে সবচেয়ে বেশি সমস্যা যানজট। কিন্তু দিনের পর দিন শহরে টোটো বেড়ে যাওয়ার জন্য যানজট সমস্যা বেড়েই চলেছে। টোটো নিয়ন্ত্রণে পুরসভা কি করছে?
সুভাষ চট্টোপাধ্যায়, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড
পুরপ্রধান: টোটো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পুরসভা থেকে টোটোগুলিকে নাম নথিভুক্ত করণের কাজ চলছে। এখনও পর্যন্ত কেবলমাত্র ২০০টি টোটো পুরসভার খাতায় নথিভুক্ত হয়েছে। আগামী দিনে জোড় সংখ্যার টোটো গুলিকে সকাল থেকে বিকাল এবং বিজোড় সংখ্যার টোটোগুলিকে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল করার জন্য নির্দেশ জারি করা হবে। এছাড়াও টোটো চলাচলের রুট নিয়েও ট্রাফিক ওসি, টোটো মালিক, পুলিশ, প্রশাসন ও পুরসভাকে নিয়ে একটি আলোচনা সভা করে এ সমস্ত ব্যাপারে খুব শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
• পুরসভার অধীন বাসস্ট্যান্ড এলাকা। জাতীয় সড়কের ধারে বাসস্ট্যান্ড হওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ড থেকে বেরিয়ে যাত্রী তোলার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। এর ফলে জাতীয় সড়কের উপর যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। যানজট সৃষ্টি হয়, সেই সঙ্গে এলাকায় দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। এ ব্যাপারে পুরসভা আগামী দিনে কী পদক্ষেপ নেবে?
শৌভিক চট্টোপাধ্যায়, ১২ নম্বর ওয়ার্ড
পুরপ্রধান: বাসস্ট্যান্ড সংস্কার করা হয়েছে। বাসস্ট্যান্ডের অভিযোগ নিয়ে অবিলম্বে বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসা হবে।
• প্লাস্টিক দূষণ ঠেকাতে পুরসভা গত বছর উদ্যোগ নিয়েছিল। শহরে এখন প্লাস্টিক কাপের ব্যবহার নেই। কিন্তু প্লাস্টিক ব্যগের ব্যবহার বন্ধ করা যায়নি!
সজল দাস, ৯ নম্বর ওয়ার্ড
পুরপ্রধান: প্লাস্টিক দূষণ ঠেকাতে দোকানে দোকানে অভিযান চালিয়ে অনেকটা প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো গিয়েছিল। সামাজিক এবং রাজনৈতিক চাপে ওই কাজে পিছিয়ে আসতে হয়েছে। প্লাস্টিক ক্যারিব্যগ নিষিদ্ধ করতে আবার অভিযান চালানো হবে। তবে সব চেয়ে আগে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি দরকার।
• শহরে মহিলাদের জন্য পৃথক শৌচালয় নেই। পুরসভা কি ভাবছে ?
সুচরিতা সেনগুপ্ত, ৩ নম্বর ওয়ার্ড
পুরপ্রধান: শহরে জায়গার অভাবে শৌচালয় করা যাচ্ছে না। বেশ কিছু জায়গায় বায়ো টয়লেট বসানো হবে। এগুলো পুরুষ ও মহিলারা উভয়েই ব্যবহার করতে পারবেন। আগামী দিনে পুরসভা এই বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই চিন্তা ভাবনা করবে।
• শহরে পানীয় জলের অভাব এখনও দূর হয়নি। পানীয় জলের পরিষেবা নিয়ে পুরসভা কী ভাবছে?
সামন্ত মণ্ডল, ১২ নম্বর ওয়ার্ড
পুরপ্রধান: পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থায় গ্রাউন্ড ওয়াটার সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তে সারফেস ওয়াটার সরবরাহ ব্যবস্থা বিভিন্ন শহরে চালু হয়েছে। আমাদের শহরেও সারফেস ওয়াটার সরবরাহ চালু করা হবে। খুব শীঘ্রই ১০ নম্বর ওয়ার্ডের যে রিজার্ভার, তা সংস্কারের পরে আরও বেশি পরিমাণ জল ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন রিজার্ভার করা হবে। ওই রিজার্ভারের মাধ্যমে যে সমস্ত ওয়ার্ডে পানীয় জলের সমস্যা আছে, সেই সমস্যা দূর করা হবে।
• পুরসভা থেকে প্রতিবছর ট্রেড লাইসেন্স বাড়িয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রেট অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর পুরসভা প্রত্যেক ব্যবসায়ীর কাছে টাকা আদায় করতে পারে?
চন্দ্রনাথ দত্ত, ৬ নম্বর ওয়ার্ড
পুরপ্রধান: খুব তাড়াতাড়ি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসব।
• শহরে নতুন প্রজন্মের যুবক থেকে নাবালক ছেলেমেয়েদের মধ্যে নেশা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে শহরের পরিবেশ খারাপ হচ্ছে। পুরসভা এ ব্যাপারে কতটা সতর্ক?
দীপেন্দ্রনাথ পণ্ডিত, ৭ নম্বর ওয়ার্ড
পুরপ্রধান: এটা ঠিকই শহরে অল্পবয়সীদের নেশা করা প্রবণতা বাড়ছে। পুরসভার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সেমিনার বা সচেতনতা শিবির করার প্রয়োজনীয়তা আছে। আগামী দিনে পুরসভা এই নিয়ে অবশ্যই চিন্তা ভাবনা করবে।
• শহরের সংস্কৃতি চর্চার প্রাণ কেন্দ্র রক্তকরবী পুরমঞ্চ সংস্কার করা হবে। তার আগে একটা বিকল্প ব্যবস্থা করলে ভালো হত। কত দিন সময় নেবে পুরমঞ্চ সংস্কারে?
সৌমেন দত্ত, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড
পুরপ্রধান: রক্তকরবী সংস্কারের কাজ দ্রুত শুরু হবে। এর জন্য যাবতীয় প্লান এস্টিমেট তৈরি করা হয়েছে। তবে কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কবে কাজ শেষ হবে এখনই বলা যাবে না। বিকল্প হিসাবে পুরসভার নেতাজি মুক্ত মঞ্চ আছে সেখানে কিছু ব্যবস্থা করে অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। তবে পুরবাসীর কাছে একটা সুখবর মহকুমা শাসকের গেষ্ঠ হাউসের জায়গায় ২০০ আসনের একটা অডিটোরিয়াম নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত প্রশাসন নিয়েছে।
• শহরের প্রাণকেন্দ্র হাটতলা। সেখানে পুরসভার নজরদারির অভাবে নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক নেই। হাটতলার রাস্তায় জবর দখলকারীদের মুক্ত করতে পুরসভা এখনও পারেনি। এর ফলে হাটতলায় দমকল ঢুকতে পারে না। পুরসভা কী ভাবছে?
মহম্মদ শরিফউদ্দিন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড
পুরপ্রধান: হাটতলায় পুরসভার নজর আছে। দেখা যাক।
• ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স পুনর্বীকরণের কাজ পুরসভা বন্ধ রেখেছে। এভাবে কতদিন?
সাহাজাদা কিনু, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড
পুরপ্রধান: পুরসভা নতুন কাউকে ফুটপাতের উপর ব্যবসা করতে দেবে না। প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে ট্রেড লাইসেন্স পুনর্বীকরণ করার কাজ শুরু হবে।
• জঞ্জাল ফেলা হচ্ছে জাতীয় সড়কের ধারে। এর ফলে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পুরসভা আর কবে দূষণ নিয়ে ভাববে?
প্রসেনজিৎ মুখোপাধ্যায়, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড
পুরপ্রধান: রামপুরহাট পুরসভা, নলহাটি পুরসভা, তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ণ পর্ষদ এবং রামপুরহাট হাসপাতালের বর্জ্য পদার্থ শহরের বাইরে ফেলে সেখানেই রিসাইক্লিং করার জন্য ৯১ বিঘে জায়গা পুরসভা কিনেছে। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই প্রকল্পটি চালু করা হবে।
• শহরে নিকাশি ব্যবস্থা না থাকার জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্বল্প বৃষ্টিতে জল জমে। বর্ষাকাল এলেই আতঙ্কে থাকি। লোটাসপ্রেস মোড়ের গলির মতো শহরের এমন বহু রাস্তা রয়েছে, সেগুলো বৃষ্টির জলে ডুবে থাকে। ৮, ৯, ১৩, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড তো বর্ষার জলে ভাসে। এমন অনেক পাড়াতেই জল। কবে মুক্তি মিলবে এই জল ভাসান থেকে?
সমীরণ মণ্ডল, ৮ নম্বর ওয়ার্ড
পুরপ্রধান: পুরসভার কাঁদর সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার মুখে। নতুন নতুন নিকাশি নালা তৈরি হয়েছে। শহরের নিকাশি ব্যবস্থা ভালো করার জন্য মাস্টার প্ল্যান করা হয়েছে।