দেশের চালক
সবে ঝালদার জারগো মোড় থেকে যাত্রী নিয়ে বাস ছেড়েছেন চালক। বিজেপি-র পাতাকা হাতে একদল লোক বাস থামিয়ে দিলেন। একজন উঠে সরাসরি চালককে বলে উঠলেন, “আপনি বাসের চালক। এতগুলো যাত্রীর নিরাপত্তা আপনার হাতে। তেমনিই আমরা এ বার দেশের মানুষের নিরাপত্তা নরেন্দ্র মোদীর উপর দিতে চাইছি। যাতে তিনিও আপনাদের মতোই সতর্কতার সঙ্গে দেশ চালাতে পারেন। সেই কাজে আপনাদের সমর্থন দরকার।” যিনি বললেন, তিনি বিজেপি-র পুরুলিয়া কেন্দ্রের প্রার্থী বিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়। সব শুনে বাস চালক ভোলা মাহাতোর প্রতিক্রিয়া, “এমন ভাবে বাস থামিয়ে আগে কেউ ভোটের প্রচার করেননি। বেশ অভিনব।” রবিবার বিকাশবাবুর সঙ্গে বেরোনো প্রচারসঙ্গীরা অবশ্য অবাক হননি। সাত সকালে কর্মীদের সঙ্গে চা খেতে গিয়ে চায়ের দোকানিকেও তিনি বলেছেন, নরেন্দ্র মোদীও একসময়ে চা বিক্রি করতেন। তাই নরেন্দ্র মোদীকেই যেন তিনি ভোটটা দেন। ভোট চেয়েছেন তরমুজ বিক্রেতা, ছোলাভাজা বিক্রেতার কাছেও। বিজেপি-র কমর্ীর্দের বক্তব্য, “প্রচারে বেরিয়ে যতটা পারা যায় জনসংযোগের কাজটা সারতে চাইছেন বিকাশদা। তাই রাস্তার পাশে বসে থাকা সব্জি বিক্রেতা থেকে বাস চালক কাউকেই তিনি বাদ দিচ্ছেন না।”
ডাব বোঝাই গাড়ি
কাঠফাটা রোদ্দুর আর লু-র তেজ। ভোট বাজারে ওই দুইয়ের দাপটে অতিষ্ঠ সব দলের প্রার্থী-কর্মীরা। দাবদাহের মধ্যে শরীর ঠিক রেখে প্রচার চালিয়ে যাওয়াই এখন তাঁদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রার্থীরা অবশ্য দমতে নারাজ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রবিবার বিকেলে বড়জোড়ায় সভা করার কথা। রবিবার বিকেলে তারই তোড়জোড় করতে করতে ছড়া কাটলেন বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সৌমিত্র খা।ঁ তিনি বললেন, “যতই হোক রোদ-গরম, থামবে না প্রচার এখন, ধেয়ে আসুক যতই তাপ, গাড়ির দরজা খুললে বেরোবে খান ছ’য়েক ডাব।” তৃণমূল প্রার্থী তো গাড়িতে ডাব বোঝাই করে প্রচারে বের হচ্ছেন, গরমের বিরুদ্ধে আপনার অস্ত্র কী? বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী সুস্মিতা বাউরি বলেন, “ডাব নিয়ে ঘোরার সময় এখনও আসেনি। তবে গ্রামে গ্রামে বিগত ৩৪ বছরে নলকূপ গড়েছি আমরা। গরমে ক্লান্তি এলেনই চোখে-মুখে নলকূপের ঠান্ডা জলের ঝাপটা নিয়ে শীতল হচ্ছি।”
ভিড় কাটল বিশ্বকাপ
সিপিএমের ‘ফেসবুক ইউজার্স’-দের আলোচনা সভায় ভিড় কাটল টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। রবিবার বিকেলে বাঁকুড়া শহরের পাটপুরে গোধূলী লজের হল ঘরে বামপন্থী মনোভাবাপন্ন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল বামেরা। হলঘর যে ভরবেই তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন বাম নেতারা। শেষ পর্যন্ত হলের অর্ধেক চেয়ারই রয়ে গেল ফাঁকা। কেন এমন হল? সভায় উপস্থিত ওন্দার বেলাড়ার তরুণ সুদীপন পাল বলেন, “বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য অনেক বন্ধু আসতে পারেননি। খেলা দেখতে আমাকেও তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে।” তরুণদের ক্রিকেট প্রেমের কথা বিলক্ষণ বোঝেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক অমিয় পাত্র। তাই তিনিও চাইছিলেন খেলা শুরুর আগে সভা শেষ করতে। সকলকে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে অনুরোধও করেন এ জন্য। তিনি বলেন, ফেসবুকে কোনও পোস্ট লাইক না করে শেয়ার করুন। তাতে অনেকের কাছে তা পৌঁছবে।”
বাঘে নয়, ফুলে নয়
প্রার্থী এসেছিলেন কর্মিসভা করতে। পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেসের সেই প্রার্থী নেপাল মাহাতোকে সামনে পেয়ে রবিবার আড়শা ব্লকের ঝুঁঝকা গ্রামে একগুচ্ছ অভিযোগ শোনালেন বৃদ্ধা টুসু রেওয়ানি। তাঁর অভিযোগ, “এতবার ভোট দিয়েও ইন্দিরা আবাস যোজনায় বাড়ি, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা মেলেনি।” থতমত কংগ্রেস কর্মীদের মুখ। নেপালবাবু জানতে চাইলেন, কাকে ভোট দেন? বৃদ্ধার জবাব, “আগে বাঘে দিতাম, গতবার ফুলে দিয়েছি।” হাসি ফুটল নেপালবাবুর মুখে। তিনি বললেন, “এ বার হাতে দিন। হাত মজবুত হলে সব হবে।” বৃদ্ধা বিড়বিড় করলেন, কত চিহ্নেই তো ভোট দিলাম। কাজ যে কে করবে সেটাই তো বুঝতে পারছি না।
পাহারায় প্রচার
হুড খোলা গাড়িতে প্রচারে বেরিয়েছেন প্রার্থী। পাশে মোটরবাইক বাহিনী। দলের কর্মীরা নয়। ১০টি মোটরবাইকে যৌথবাহিনীর জওয়ানরা রবিবার জঙ্গলমহলের রাস্তায় বিজেপি-র বাঁকুড়া কেন্দ্রের প্রার্থী সুভাষ সরকারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে গেলেন। রানিবাঁধের হেতাপাথর গ্রাম থেকে কালিখেন্ন্যা, লেদাপাকুড়, গুণপুরা, খেজুরিয়া, কালাপতি, করাপাড়া, পড়াডি, বাঁশডিহা, ঝিলিমিলি, ভুলাগাড়া, বারিকুল, ধানঝাড় হয়ে কতরো, কলাবনি, কদমাগড়ের ভিতর দিয়ে তিনি প্রচার সারেন।
থ্যাঙ্কস টু চৈত্র সেল
রবিবার পড়ন্ত দুপুরে বাঁকুড়ার চকবাজারে জমে উঠেছিল চৈত্র সেলের ভিড়। রানিবাঁধে ভোটের প্রচার সেরে কয়েকজন কর্মী-সমর্থক নিয়ে সটান সেখানে হাজির হলেন বিজেপি-র বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী সুভাষ সরকার। কেনাকাটা করতে আসা লোকজনদের দেখে হাতজোড় করে ভোট চাইলেন। কিছু পরিচিত দোকানদার ও ক্রেতাদের সঙ্গেও আলাদা করে কথা বললেন। মিছিল করলেন বাজারের মধ্যে। আর বললেন, “এই গরমে ছুটির দুপুরেও এত মানুষকে এক সঙ্গে পাওয়া সেলের বাজারেই সম্ভব। থ্যাঙ্কস টু চৈত্র সেল!”