সাম্প্রতিক অতীতে ইরান এমন হামলা দেখেনি, যা আজ দেখবে। আজ (মঙ্গলবার) রাতের মধ্যেই একটা সভ্যতার ধ্বংস হবে। এমনই ভাষায় ইরানকে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ় প্রণালী খোলার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার (আমেরিকার সময় অনুযায়ী। ভারতীয় সময়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা) মধ্যে যদি ইরান কথা না শোনে, তবে তেহরানকে নরকে পাঠানো হবে। তবে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর এখনও হরমুজ় ‘অবরোধ’ করে রেখেছে ইরান। সেই সময়সীমা শেষ হতে আর কয়েক ঘণ্টা বাকি। তার আগেই আবার এক বার সুর চড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সুর শোনা গেল আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের কণ্ঠেও। তিনি জানান, ইরান যদি ভাবে তারা হামলা চালিয়ে যাবে, তবে আমেরিকাও আরও জোরালো আঘাত হানতে পারে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্টে ছত্রে ছত্রে হুঁশিয়ারি। তিনি লেখেন, ‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত এটাই ঘটবে।’ তবে ট্রাম্প এখনও আশাবাদী ‘ইতিবাচক’ কিছু ঘটতে পারে। শেষ মুহূর্তে হয়তো অভিযান বাতিল করতে হতে পারে তাঁকে। নিজের পোস্টে সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘এখন যেহেতু একটি শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ এবং সার্বিক ভাবে পরিবর্তন হয়েছে, তাই সেখানে চমৎকার কিছু ঘটতে পারে।’ ট্রাম্প মনে করেন, ইরানের বর্তমান শাসক বুদ্ধিমান এবং কম উগ্রপন্থী মানসিকতার মানুষ, তাই অন্য কিছু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘‘আমরা আজ রাতেই সেটা জানতে পারব। ৪৭ বছরের তোলাবাজি, দুর্নীতির অবসান ঘটবে।’’ গোটা পোস্টের শুধু শেষেই ইরানের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের সকল মানুষের মঙ্গল কামনা করেছেন।
অন্য দিকে, ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ইরানের প্রধান তৈলভান্ডার খার্গ আইল্যান্ডে হামলা শুরু হয়েছে বলে খবর। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, খার্গের ৫০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরানের সংবাদসংস্থা মেহর প্রথম এই হামলার খবর প্রকাশ্যে আনে। তবে এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও এই হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। সে দেশের রেভলিউশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, সংযম শেষ। তাদের দাবি, তারা আমেরিকা এবং তাদের বন্ধু দেশগুলির জ্বালানি পরিকাঠামো ধুলিসাৎ করতে পারে। এই হুঁশিয়ারির ফলে আবার নতুন করে জ্বালানি নিয়ে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের প্রধান তৈলভান্ডার খার্গে এর আগে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওই দ্বীপের সামরিক ঘাঁটিগুলি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। তবে তৈলভান্ডার এখনও অক্ষত। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহণে বাধা দেওয়া বন্ধ না-করলে তৈলভান্ডারেও হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। অনেকের মতে, সেই অভিযান শুরু হয়ে গেল।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ় প্রণালী দিয়ে কিছু বন্ধু দেশের জাহাজকে চলাচল করতে দিচ্ছে ইরান। তবে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের জাহাজকে সেই ছাড় দিচ্ছে না তারা। এ অবস্থায় হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের জন্য নতুন করে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাত ৮টা (স্থানীয় সময়) পর্যন্ত তিনি সময় দিয়েছেন ইরানকে। এই সময়ের মধ্যে হরমুজ় না-খুললে ইরানের উপরে আরও জোরালো হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে আমেরিকা। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যেমন সুর চড়ালেন ট্রাম্প, তেমনই খার্গে হামলাও শুরু হয়েছে।