লেবাননের হিজ়বুল্লা, ইরাকের ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) এবং আশাব আল-কাহ্ফের পরে এ বার পশ্চিম এশিয়ার রণাঙ্গণে অবতীর্ণ হল ইরান সমর্থিত আর এক শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী— ইয়েমেনের হুথি! সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হওয়ার দিনে ইজ়রায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা।
হুথি বাহিনীর মুখপাত্র, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি শনিবার ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভিডিয়ো ফুটেজ প্রকাশ করেন। বিদ্রোহী বাহিনী নিজস্ব স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল আল-মাসিরাহ তিনি বলেন, ‘‘আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’’
আরও পড়ুন:
এর আগে ২০২৩-এর অক্টোবরে গাজ়ায় সংঘর্ষ শুরুর পরে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল হুথি। সে সময়ও ইজ়রায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল তারা। পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টিকম) বাহিনী চলতি বছরের গোড়া থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সৌদি আরবের মদতপুষ্ট ইয়েমেনের সুন্নি মুসলিম গোষ্ঠীর সরকারও শিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু রাজধানী সানা-সহ উত্তর ইয়েমেনের বিভিন্ন অংশ এখনও হুথিদের নিয়ন্ত্রণে। সেখান থেকেই এ বারেও ইজ়রায়েলে হামলা চালিয়েছে তারা।
আরও পড়ুন:
পশ্চিম এশিয়ায় তেল আভিভের বিরুদ্ধে তেহরানের ‘যৌথ প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি’ (অ্যাক্সিস অফ রেজ়িস্ট্যান্স)-তে গাজ়ার হামাস, লেবাননের হিজ়বুল্লা, ইরাকের ‘পপুলার মোবিলাইজ়েশন ফোর্স’ এবং এবং আশাব আল-কাহ্ফের পাশাপাশি রয়েছে ইয়েমেনের হুথি বাহিনীও। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হুথি বাহিনী ইজ়রায়েলে হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বা তার বেশি গতিসম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্যালেস্টাইন-২’ দিয়ে হামলা চালিয়েছিল। তার পর ইজ়রায়েলও ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছিল ইয়েমেনে। কিন্তু হিজ়বুলার মতোই হুথি বাহিনীও কোনও অবস্থায় তেল আভিভের সঙ্গে সমঝোতার রাস্তায় হাঁটবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আগেই।