নাতান্জ় পরমাণু কেন্দ্রে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইজ়রায়েলের ডিমোনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাল ইরান। ঘটনাচক্রে, এই শহরেরই রয়েছে ইজ়রায়েলের পরমাণু কেন্দ্র। সেই কেন্দ্র লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে বলে ইজ়রায়েলের সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শনিবারই ইরানের নাতান্জ় পরমাণু কেন্দ্রকে নিশানা বানিয়েছিল ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। সেই হামলার ‘বদলা’ নিতেই ইজ়রায়েলের ডিমোনা শহরে শমিন পেরেজ় নেগেভ পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এই হামলায় শতাধিক আহত হয়েছেন বলে ইজ়রায়েলের সাংবাদমাধ্যমগুলিতে দাবি করা হয়েছে। ওই সংবাদমাধ্যগুলিতে আরও বলা হয়েছে যে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র একটি কমিউনিটি ভবনে আছড়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ওই এলাকার অধিকাংশ লোকজনই সমসয়মতো ‘বম্ব শেল্টার’-এ আশ্রয় নেওয়ায় প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে এই হামলায় একশোরও বেশি স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই ডিমোনা শহরেই প্রচুর ভারতীয় থাকেন। যে কারণে এই ডিমোনা শহরকে ‘লিটল ইন্ডিয়া’ও বলা হয়। তবে কোনও ভারতীয় আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। এই শহরে সাড়ে সাত হাজার ভারতীয় থাকেন। যাঁদের বেশির ভাগই মহারাষ্ট্রের। এখানে ক্রিকেট অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা। ভারতীয় খাবারদাবারও পাওয়া যায়। এখানে মরাঠী ভাষারও প্রচলন রয়েছে। এই হামলার পর আতঙ্কিত সেখানকার ভারতীয়েরা।
ইজ়রায়েল সেনা এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। শুধু ডিমোনাই নয়, আরাদেও হামলা চালানো হয় বলে দাবি। সংবাদসংস্থা এএফপি-র প্রতিবেদন বলছেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে আটকানোর চেষ্টা করে ইজ়রায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। ১০০ কেজি বিস্ফোরক বহনক্ষম দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি এসে আঘাত করে। আরাদে ৮৪ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আর ডিমোনায় আহত হয়েছেন ৩৩ জন। প্যারামেডিক্যাল দলের এক সদস্য কারমেল কোহেন জানিয়েছেন, এই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আরাদ এবং ডিমোনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইজ়রায়েল বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন। তিনি জানিয়েছেন, সময়মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র দু’টিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যর্থ হয়। কেন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলা রুখতে ব্যর্থ হল, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন ডেফরিন। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইজ়রায়েলের ডিমোনায় পরমাণু কেন্দ্র সুরক্ষিত রয়েছে। শনিবারেও ইজ়রায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। জেরুসালেমে আল-আকসা মসজিদের কয়েক মিটার দূরে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। সেই হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা স্পষ্ট ভাবে কিছু উল্লেখ করেনি ইজ়রায়েল।
প্রসঙ্গত, শনিবার ইরানের নাতান্জ় পরামাণু কেন্দ্রে হামলা চালায় আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। তার পরই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, ইজ়রায়েলের জন্য বড় চমক অপেক্ষা করছে। সেই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইজ়রায়েলের দুই শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
ইরানের বন্দরে একের পর এক জাহাজে আগুন! লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা ইজ়রায়েলের, পশ্চিম এশিয়ায় আবার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
-
‘আমেরিকার সামনে দুই বিকল্প, বলও ওদের কোর্টে’! যুদ্ধ নিয়ে প্রস্তাব ফেরাতেই ট্রাম্পকে বার্তা ইরানের, কোন দিকে ইঙ্গিত
-
‘আমরা জলদস্যুই’! হরমুজ়ে ইরানি জাহাজের ‘দখল’ প্রসঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশংসা করলেন ট্রাম্প
-
‘কালো ইগল’-এর ঠোক্করের আতঙ্কে থরহরিকম্প! ট্রাম্পের ‘ইয়র্কারে স্টাম্প ওড়া’র ভয়ে শান্তিচুক্তিতে নিমরাজি শিয়া ফৌজ?
-
ইরান-যুদ্ধে সাহায্য না পেয়ে বড় পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের, ৫০০০ সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে ইউরোপের দেশ থেকে