দিন তিনেক আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যে পদক্ষেপ করেছিল, তার বদলা নিল ইরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে রবিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সকল সদস্য রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে তারা ‘সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী’ বলে ঘোষণা করল। দেশের আইন উল্লেখ করে এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ রবিবার ইউরোপকে হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন।
গত বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনীর ‘এলিট ফোর্স’ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-কে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ধর্মীয় শাসন এবং কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে ইরানে যে আন্দোলন চলছে, তা কঠোর ভাবে দমন করেছে এই রেভল্যুশনারি গার্ড। তার বিরোধিতা করেই ইইউ তাদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা দেয়। এর প্রতিবাদে রবিবার ইরানের পার্লামেন্টে স্পিকার-সহ সকলে রেভলিউশনারি গার্ডের পোশাক পরে এসেছিলেন। স্পিকার বলেন, ‘‘রেভলিউশনারি গার্ডের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে গিয়ে আসলে ইউরোপীয়রা আরও এক বার নিজেদের পায়ে কু়ড়ুল মারল। নিজেদের জনগণের স্বার্থের কথা না ভেবে তারা অন্ধ ভাবে আমেরিকানদের অনুকরণ করছে।’’
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডকে আগেই ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা দিয়েছিল আমেরিকা। ২০১৯ সালে আমেরিকার সেই পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে ইরানের পার্লামেন্টে একটি আইন পাশ হয়। তাতে বলা হয়েছিল, আমেরিকার মতো পদক্ষেপ যদি আর কোনও দেশ করে, তাদের বিরুদ্ধে যে কোনও প্রত্যাঘাতমূলক পদক্ষেপ করতে পারবে তেহরান। সেই আইনের ধারা উল্লেখ করেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হল।
ইরানের সেনাবাহিনীতে রেভলিউশনারি গার্ড তৈরি করা হয়েছিল ১৯৭৯ সালে। দীর্ঘ দিন ধরেই এর সঙ্গে আমেরিকার সঙ্ঘাত প্রকট হয়ে আসছে। এই বাহিনীর প্রধান কাশেম সোলেমানিকে ২০২০ সালের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হত্যা করেছিল আমেরিকা। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ‘সন্ত্রাসবাদী তকমা’ দেওয়ায় এখন আল কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট্স-এর মতো গোষ্ঠীর সমপর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড। রবিবার তার পাল্টা দিল তেহরানও।