ইরানে গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা গণবিক্ষোভে কত জনের মৃত্যু হয়েছে? গত কয়েক দিনে তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পরিসংখ্যান উঠে আসতে শুরু করেছে। এ বার তেহরান সরকারি ভাবে জানাল, সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভে সে দেশে অন্তত পাঁচ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে। ইরানের আধিকারিক সূত্রে এমনটাই জানাচ্ছে রয়টার্স। তেহরানের দাবি, নিহতদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের একাংশকে ‘জঙ্গি এবং সশস্ত্র দুষ্কৃতী’ বলে দাবি করছেন ইরানি কর্তৃপক্ষ। ওই অস্ত্রধারীরাই ইরানের নিরীহ জনতাকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ তেহরানের। আমেরিকার মানবাধিকার সংগঠনের সংবাদসংস্থা (এইচআরএএনএ) শনিবার দাবি করে, ইরানের বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা ৩,০৯০। তাঁদের মধ্যে ২,৮৮৫ জন বিক্ষোভকারী এবং বাকিরা সাধারণ মানুষ। যদিও মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য টাইম্স সম্প্রতি ইরানের প্রত্যক্ষদর্শী, মূলত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ইরানে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১৬,৫০০। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ জখম হয়েছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে গণবিক্ষোভ শুরু হয়। প্রাথমিক ভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা-ই পরে সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের রূপ নেয়। এবং তা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে থাকে একের পর এক শহরে। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পায় ইরানি প্রশাসনের দমনপীড়নও। ইরানি প্রশাসনের দমনপীড়নের জেরে অনেক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিহতদের সংখ্যা ঘিরে বিভিন্ন ধরনের পরিসংখ্যান উঠে আসায় প্রশ্ন উঠতে থাকে ইরানে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও। তা হলে কি নিহতদের সংখ্যা গোপন করার চেষ্টা করছে তেহরান? এমন প্রশ্নও উঁকি দিতে শুরু করে।
আরও পড়ুন:
এই অবস্থায় তেহরানের এক আধিকারিক সূত্রে গণবিক্ষোভে মৃতের সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আনল রয়টার্স। ইরানের ওই আধিকারিকের দাবি, নিহতদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পাবে না বলেই জানিয়েছেন তিনি।
বস্তুত, ইরানের এই বিক্ষোভে সরাসরি সমর্থন জুগিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে সামরিক অভিযান করতে পারে আমেরিকার বাহিনী, একাধিক বার তা নিয়ে সতর্ক করেন তিনি। যদিও বর্তমানে বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত। শুক্রবার ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা করেন, ‘‘ইরানের নেতৃত্ব সমস্ত মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে। বৃহস্পতিবার ৮০০-র বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ইরানের এই সিদ্ধান্তকে আমি শ্রদ্ধা করি। ধন্যবাদ।’’