Advertisement
E-Paper

গুগ্‌ল, মেটা ও মাইক্রোসফ্‌টের মতো মার্কিন সংস্থাও ইরানের নিশানায়! ১৮টিকে হুঁশিয়ারি, কৌশল বদলাচ্ছে তেহরান?

ইরানের এই হুমকিকে আমল দিতে নারাজ আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, তেহরানের যে কোনও ধরনের সম্ভাব্য হামলার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৫৮
Iran will target Microsoft, Apple like US tech companies

(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

ইরানের নিশানায় এ বার আমেরিকার বেশ কয়েকটি নামী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাও। ইরান সেনার ‘এলিট ফোর্স’ ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আবার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল আমেরিকাকে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যে ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে, তার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তবে মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি ঘাঁটি নয়, সরাসরি আমেরিকার কিছু তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার আঞ্চলিক অফিসকে নিশানা করা হবে বলে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে ইরানি বাহিনী। মনে করা হচ্ছে, তেহরান এ বার আক্রমণের ধরন বদলাচ্ছে।

ইরান যে তালিকা দিয়েছে, তাতে গুগ্‌ল, মাইক্রোসফ্‌ট, অ্যাপ্‌ল, ইন্টেলের মতো প্রধান প্রধান মার্কিন সংস্থা রয়েছে। শুধু আমেরিকা নয়, গোটা বিশ্বে এই সংস্থাগুলি তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে রাজত্ব করে। তালিকায় কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংস্থাও রয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ১ এপ্রিল, বুধবার রাত ৮টা (স্থানীয় সময়) থেকে মার্কিন সংস্থাগুলির আঞ্চলিক অফিসে হামলা শুরু হবে। অর্থাৎ, ভারতীয় সময় রাত ১০টা থেকে হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম আইআরজিসি-র বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, যুদ্ধের লক্ষ্য নির্ধারণ করায় যে হেতু আমেরিকান, আইসিটি এবং এআই সংস্থাগুলি অন্যতম ভূমিকা নিয়ে থাকে, তাই ওই সংস্থাগুলিকে ইরানের সেনাবাহিনী তাদের ‘বৈধ’ লক্ষ্যবস্তু হিসাবে চিহ্নিত করেছে। সেই সমস্ত সংস্থায় হামলা চালানো হবে। সংস্থায় কর্মরত কর্মী এবং আধিকারিকদের দ্রুত অফিস ছাড়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

ইরানের দেওয়া তালিকায় কোন কোন সংস্থা রয়েছে? আইআরজিসি ওই সংস্থাগুলিকে ‘সন্ত্রাসী সংস্থা’ হিসাবে উল্লেখ করেছে। তালিকায় রয়েছে, মেটা, গুগ্‌ল, মাইক্রোসফ্‌ট, ইন্টেল, আইবিএম, ডেল, টেসলা, এমভিডিয়া, বোয়িং, হিউলেট প্যাকার্ড (এইচপি), সিসকো, ওরাকল, প্ল্যান্টার, জেপি মরগ্যান, জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই), স্প্যায়ার সলিউশন এবং জি৪২।

যদিও ইরানের এই হুমকিকে আমল দিতে নারাজ আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, তেহরানের যে কোনও ধরনের সম্ভাব্য হামলার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের এক কর্তা জানান, যে কোনও আগ্রাসনের জবাব দিতে তৈরি মার্কিন বাহিনী। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা প্রস্তুত। সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থার (ইরান) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের ৯০ শতাংশই ধ্বংস হয়েছে। এটাই প্রমাণ।’’

কেন ইরানের নিশানায় তথ্যপ্রযুক্তি বা এআই সংস্থাগুলি? সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধে কে জিতবে, কে পরাস্ত হবে— বর্তমানে তা অনেকটাই নির্ভর করে তথ্যের উপর। যার কাছে বিপক্ষের যত তথ্য রয়েছে, সে তত শক্তিশালী। ‘শত্রুদের’ গতিবিধি নির্ধারণ-সহ বিভিন্ন বিষয় নির্ভর করে তথ্য এবং প্রযুক্তির উপর। মার্কিন সেনাবাহিনী এমন নানা তথ্যের উপর ভিত্তি করেই ইরানে হামলা চালাচ্ছে। মূলত, গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে থাকে এই তথ্যভান্ডার। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি প্রায়শই পরোক্ষ ভাবে এই তথ্য সরবরাহ করে থাকে।

US-Iran Conflict Google Microsoft Meta
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy