Advertisement
E-Paper

আমেরিকাবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখল ইরান! যুদ্ধ চালিয়ে মার্কিন জনতার কোন স্বার্থসিদ্ধি করছে ট্রাম্প প্রশাসন, তুলল প্রশ্ন

এই যুদ্ধ চালানোর মাধ্যমে মার্কিন জনতার ঠিক কোন স্বার্থগুলি আমেরিকা পূরণ করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ পরিস্থিতি যে উভয় পক্ষের জন্যই ব্যয়বহুল, তা-ও উল্লেখ করেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৯
(বাঁ দিকে) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

আমেরিকাবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। প্রশ্ন তুললেন, মার্কিন প্রশাসন কি সত্যিই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি মেনে চলছে? এই যুদ্ধের ফলে মার্কিন জনতার ঠিক কোন স্বার্থগুলি আসলে পূরণ হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পেজ়েশকিয়ান।

বৃহস্পতিবার ভোরে (ভারতীয় সময়ে) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার বার্তা দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, দুই-তিন সপ্তাহের বেশি যুদ্ধ টানার ক্ষমতা নেই তেহরানের। ট্রাম্পের এই খোঁচার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই আমেরিকাবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন পেজ়েশকিয়ান।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকা এবং ইরানের সংঘর্ষ চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে ইরানে হামলা করে। তার পরে সেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে গোটা পশ্চিম এশিয়ায়। যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন, পেজ়েশকিয়ান যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছেন। যদিও সেই দাবি অস্বীকার করেছে ইরান। আমেরিকার সাধারণ জনতার উদ্দেশে লেখা খোলা চিঠিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকা যে ভাবে হামলা চালিয়েছে, তা যুদ্ধাপরাধের সমান। আমেরিকাকে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত করেছেন তিনি। ইজ়রায়েলের কথা শুনে আমেরিকা প্রভাবিত হচ্ছে, এমন দাবিও করেছেন তিনি।

খোলা চিঠিতে পেজ়েশকিয়ান লেখেন, “ইরানের জ্বালানি এবং শিল্প পরিকাঠামো-সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে হামলায় সরাসরি ইরানের সাধারণ জনতাকে নিশানা করা হচ্ছে।” তাঁর দাবি, এটি শুধু যুদ্ধাপরাধই নয়। এই ধরনের হামলার পরিণতি আরও অনেক দূর বিস্তৃত।

এই যুদ্ধ চালানোর মাধ্যমে মার্কিন জনতার ঠিক কোন স্বার্থগুলি আমেরিকা পূরণ করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ পরিস্থিতি যে উভয় পক্ষের জন্যই ব্যয়বহুল, তা-ও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, মার্কিন প্রশাসন এখন যে বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তার মধ্যে কি আদৌ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি রয়েছে? বস্তুত, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা ‘আমেরিকার প্রয়োজনকে সব কিছুকে আগে গুরুত্ব দেওয়া’— এই প্রতিশ্রুতির উপর ভর করেই দ্বিতীয় বার হোয়াইট হাউসে এসেছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে তাঁর বিভিন্ন কার্যকলাপেও সেই নীতি প্রতিফলিত হয়েছে।

তবে এ বার ট্রাম্পের সেই নীতি আদৌ মার্কিন প্রশাসন মানছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন পেজ়েশকিয়ান। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, সাধারণ আমেরিকানেরা ইরানের শত্রু নন। খোলা চিঠিতে পেজ়েশকিয়ান লেখেন, “আগ্রাসন এবং ক্রমাগত চাপ সহ্য করার পরেও ইরান কখনও যুদ্ধ শুরু করেনি। প্রতিবেশী অনেক দেশের চেয়ে সামরিক দিক থেকে বেশি শক্তি থাকার পরেও ইরান এমন কোনও পদক্ষেপ করেনি।”

Iran US Donald Trump Masoud Pezeshkian
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy