ইসলামাবাদে প্রথম দফার শান্তিবৈঠকে কেন রফাসূত্র মিলল না? শুধুই কি দু’দেশের শর্তপূরণ না-হওয়া? আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স মনে করেন, শান্তি আলোচনার সাফল্যের নেপথ্যে বড় বাধা ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস! সেই অবিশ্বাস না-কাটলে রফাসূত্র বার হওয়া বস্তুত কঠিন। আর এই অবিশ্বাস রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় বলেই মনে করেন ভান্স। তিনি জোর দেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবিশ্বাস কেটে যাবে। মিলবে সমাধান।
মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) এক অনুষ্ঠানে ইরান-আমেরিকা শান্তিবৈঠকের ব্যর্থতার কারণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অবিশ্বাসের কথা বলেন ভান্স। তাঁর মতে, ‘‘এই অবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে রয়ে গিয়েছে।’’ তবে ভান্স আশাবাদী, শীঘ্রই ইতিবাচক কোনও পদক্ষেপ হবে। তাঁর কথায়, ‘‘ইরানিরা একটি চুক্তিতে পৌঁছোতে চান। গত ৪৯ বছরে আমেরিকা এবং ইরান সরকারের মধ্যে এই পর্যায়ে এমন বৈঠক কখনও হয়নি। আমরা সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা এখন যে অবস্থানে আছি, তা নিয়ে আমি যথেষ্ট সন্তুষ্ট।’’
ভান্স জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কোনও একটা সীমিত চুক্তি চায় না। তারা চায় বৃহত্তর চুক্তি! তাঁর কথায়, ‘‘প্রেসিডেন্ট এমন একটি নীতি নিয়েছেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না। এবং আমরা সেটা নিশ্চিত করছি। প্রেসিডেন্ট কোনও সাধারণ চুক্তিতে বিশ্বাসী নন। তিনি একটা বড় ধরনের সমঝোতা চান।’’
আরও পড়ুন:
পাকিস্তানে আলোচনা প্রসঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আমাদের বৈঠকে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। তবে কোনও চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। কারণ, প্রেসিডেন্ট এমন একটি চুক্তি চান যেখানে ইরানিরা কোনও পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না। তবে সেখানকার মানুষ উন্নতি লাভ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন, এটা আমরা চাই। আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব।’’
পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা কাটাতে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতা শুরু করেছে ইসলামাবাদ। আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার শুরু থেকেই অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছে তারা। আমেরিকাও তাদের শর্তাবলি পাকিস্তান মারফতই পাঠিয়েছিল ইরানকে। গত সপ্তাহে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেরও আয়োজন করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু সেই বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে। ইসলামাবাদের হোটেলে প্রায় ২০ ঘণ্টা আলোচনা চলার পরে কোনও সমাধানসূত্র ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। এরই মধ্যে আবার আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে একপ্রস্ত আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, গত সপ্তাহে ইসলামাবাদ বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয়গুলির প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে সমঝোতায় পৌঁছে গিয়েছিল দু’দেশ। তবে বাকি অংশটুকু নিয়ে কোনও তাৎক্ষণিক সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসেনি। সেই সমাধানসূত্র খুঁজতে বৃহস্পতিবার আবার আমেরিকা এবং ইরান মুখোমুখি বৈঠকে বসতে পারে। বৈঠক হতে পারে পাকিস্তানেই। দ্বিতীয় দফার বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্পও। তিনি জানান, দু’এক দিনের মধ্যে ‘দারুণ’ কিছু ঘটতে পারে।