তিনি ইরানের সর্বোচ্চ পদে বসেছেন। আর এই পদপ্রাপ্তির নেপথ্যে রয়েছে তাঁর বাবা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু। তবে শুধু বাবা নয়, ইজ়রায়েল-আমেরিকার একযোগে হামলায় নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষদেরও হারিয়েছেন মোজতবা খামেনেই। এমনটাই বলছে ইরান এবং বিদেশের সংবাদমাধ্যম।
তেহরানে খামেনেই যেখানে থাকতেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে (ইরানের সময়ে) সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। তাতে মৃত্যু হয় ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় খামেনেইয়ের স্ত্রী মানসুরেহ খোজাসতেহ বাঘেরজ়াদেহর। ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুধু বাবা-মাকে নয়, হামলায় স্ত্রী এবং এক পুত্রকেও হারিয়েছেন মোজতবা। তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ গিয়েছে তাঁর স্ত্রী জ়াহরা হাদাদ-আদেলের। মোজতবার দুই পুত্র এবং এক কন্যা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক পুত্রেরও প্রাণ গিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম।
ইরানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ইজ়রায়েল-আমেরিকার হামলায় মোজতবার এক বোন, ভগ্নিপতি, এক ভাগ্নে এবং এক ভাগ্নিও নিহত হয়েছেন। খামেনেইয়ের চার পুত্র এবং দুই কন্যা। তাঁদের মধ্যে এক কন্যা, তাঁর স্বামী এবং দুই নাতি-নাতনির নিহত হয়েছেন বলে খবর। তবে দুই নাতি-নাতনি খামেনেইয়ের কোন সন্তানের, তা স্পষ্ট নয়। নিহত কন্যার পরিচয়ও জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন:
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসাবে মোজতবার নাম ঘোষণা হওয়ার আগে এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমাদের সম্মতি না থাকলে ওই ব্যক্তি বেশি দিন টিকতে পারবেন না (ইরানে ক্ষমতায়)।’’ ইজ়রায়েল হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যে-ই হোন সর্বোচ্চ নেতা, তাঁকে নিশানা করে হামলা চলবে।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ সভা (অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট্স) সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে মোজতবাকে বেছে নিয়েছে। এই পদ তাঁকে সারা দেশের শাসন পরিচালনার অধিকার দিল। দেশের যাবতীয় বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে ধরা হবে।