ভুল করে নয়, পুরোপুরি পরিকল্পনা করেই মিনাবের স্কুলে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই হামলায় শিক্ষক এবং পড়ুয়া-সহ ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জে এই বিষয়টি উত্থাপন করে সরব হয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার পরিষদে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের স্কুলে হামলা প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, ‘‘কোনও ভুল নয়, পুরোপুরি পরিকল্পনা করেই হামলা। এটি যুদ্ধ অপরাধ। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।’’
আরাঘচি আরও জানিয়েছেন, এই হামলায় নিজেদের দোষ ঢাকতে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল প্রথমে ইরানের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তোলে। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দাদের রিপোর্টেই দাবি করা হয়, এই হামলার জন্য দায়ী আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেও এই হামলার দায় স্বীকার করতে চায়নি তারা। কিন্তু শেষে ‘প্রযুক্তির ভুল’-এর কারণেই এই ঘটনা বলে দায় সেরেছে দুই দেশে। তবে সরাসরি স্কুলকেই যে নিশানা বানানো হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গই রাষ্ট্রপুঞ্জে তুলেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যতই বিষয়টি লঘু করার চেষ্টা করুক না কেন, এই হামলা যে সুপরিকল্পিত ছিল, সেটা নিশ্চিত।’’
এর পর আরাঘচি জানান, এই ধরনের হামলা যুদ্ধ অপরাধ। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। একযোগে এই ঘটনার নিন্দা করা উচিত সকলের। তাঁর কথায়, ‘‘এই ধরনের নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ডকে কোনও ভাবে ক্ষমা করা যায় না। কোনও ভাবেই এই অপরাধ গোপন করা যায় না। নীরব থেকে উদাসীনতা দেখিয়ে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।’’ তাঁর দাবি, এই হামলাকে শুধুমাত্র একটা ঘটনা বা ভুল বলে দাগিয়ে দিলে হবে না।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাবে এক স্কুলে টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে। ঘটনাচক্রে, ওই দিনই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে দুই দেশ। ওই দিনই প্রথমে হামলা চালানো হয় সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দফতরে। সেই হামলায় নিহত হন খামেনেই-সহ ইরানের বেশ কয়েক জন সামরিক এবং প্রশাসনিক কর্তা। তার পরই হামলা চালানো হয় মিনাব শহরে। সেই হামলাতেই স্কুল পড়ুয়া-সহ ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘আমাদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের অবস্থাও হত গাজ়ার মতো’! দাবি পেজ়শকিয়ানের, নিশানায় আমেরিকা
-
‘ভুল, খুব ভুল করছে’! ইরানকে ফের কী নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প? শান্তিবৈঠক বন্ধ করার হুমকিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের
-
হিজ়বুল্লা-নিধনে ইজ়রায়েল হামলা চালিয়ে গেলেও ‘স্পিকটিনট’! ৩০০০০ কোটি ডলারে ইরানের মুখ বন্ধ করল আমেরিকা?
-
‘পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই’! যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রকাশে দেরি নিয়ে প্রশ্নে মজাচ্ছলেই খোঁচা ভান্সের
-
হিজ়বুল্লার সঙ্গে ‘যুদ্ধবিরতি’ জানিয়েও ফের ইজ়রায়েলি হানা লেবাননে! শান্তিচুক্তিতে নারাজ নেতানিয়াহুর কৌশল কী?