ভারত, ব্রিটেন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জ়িল্যান্ডের পথেই হাঁটল পাকিস্তান। আমেরিকায় কোনও চিঠি বা পার্সেল পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করল শাহবাজ় শরিফের সরকার। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতির কারণে সাময়িক ভাবে আমেরিকায় ডাক পরিষেবা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান।
আমেরিকা বিভিন্ন দেশের উপর নতুন হারে শুল্ক আরোপ করেছে। সেই তালিকায় যেমন বাদ যায়নি ভারত, তেমনই রয়েছে পাকিস্তানও। তবে ভারতের তুলনায় অনেকটাই কম হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে পাকিস্তানের উপর। শুল্ক ঘোষণার সময় ট্রাম্প জানিয়েছিল, ভারতকে ২৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। আর পাকিস্তানি পণ্যের উপর ১৯ শতাংশ শুল্ক ধার্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও পরে ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান তিনি। রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘জরিমানা’ হিসাবেই ভারতকে দিতে হবে অতিরিক্ত শুল্ক। ট্রাম্পের এই নীতি ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সেই আবহে পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও ‘গাঢ়’ হয়েছে আমেরিকার। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দিনের ব্যবধানে দু’বার আমেরিকায় গিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। শুধু তা-ই নয়, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। তবে তার পরও শুল্ককাঁটা থেকে অব্যাহতি পায়নি পাকিস্তান। কাজে দেয়নি ট্রাম্পের গুণগান গাওয়া।
ট্রাম্পের নীতির কারণে পাকিস্তান থেকে আমেরিকায় পাঠানো জিনিসের উপর অতিরিক্ত শুল্ক গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষকে। প্রভাব পড়েছে ডাক ব্যবস্থাতেও। শুধু চিঠি নয়, অন্য অনেক জিনিসও ডাকের মাধ্যমে আমেরিকায় পাঠান পাকিস্তানের নাগরিকেরা। তবে আপাতত সেই ব্যবস্থা স্থগিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের ডাক বিভাগ। শুধু তা-ই নয়, ইতিমধ্যে যাঁরা আমেরিকায় চিঠি বা পার্সল পাঠানোর জন্য নথিভুক্ত করেছেন, তাঁদের জিনিস ফেরত পাঠানো হবে বলেই খবর, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে।
আমেরিকায় ডাক পরিষেবা স্থগিত করা পথে হেঁটেছে বিশ্বের ২৫টির বেশি দেশ। রাশিয়া, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোও একই পথে হেঁটেছে। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল পাকিস্তান।
আরও পড়ুন:
পহেলগাঁও কাণ্ডের পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। পহেলগাঁও কাণ্ডের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে সিন্ধুচুক্তি স্থগিত, ভিসা বাতিলের মতো একাধিক পদক্ষেপ করেছে ভারত। পাকিস্তানও পাল্টা পদক্ষেপ করেছে। পহেলগাঁও কাণ্ডের প্রত্যাঘাত হিসাবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং তার পরবর্তী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত চরমে ওঠে। সংঘর্ষ আপাতত বন্ধ থাকলেও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। তবে এই আবহে আমেরিকা বার বার দু’দেশের সম্পর্ক মেরামতির কারিগর হিসাবে দায়ী করে। পাকিস্তান সেই দাবিতে মান্যতা দিলেও ভারত মানতে চায়নি। ভারত-আমেরিকার সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন ট্রাম্প। তবে তাঁর শুল্কনীতি যে পাকিস্তানেও প্রভাব ফেলছে, তারই পদক্ষেপ হিসাবে ডাক ব্যবস্থা স্থগিতের সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদের, মনে করছেন অনেকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২ ফেব্রুয়ারি নিজেই সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারতের উপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন তিনি।
- ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীই তাঁকে শুল্ক সমঝোতার জন্য অনুরোধ করেন বলে জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকার কাছ থেকে আরও বেশি তেল কিনবে ভারত।
-
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সার! ১৫ নয়, ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কই ধার্য করল মার্কিন সরকারি এজেন্সি, মঙ্গলবার থেকেই হল কার্যকর
-
১০ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ! সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের
-
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতায় বদল নেই, নিজের দেশের সুপ্রিম রায়ে ‘হতাশ’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
-
কোর্ট বেআইনি বলায় কি শুল্কের টাকা ফেরত দিতে হবে? ১০% নতুন শুল্ক আরোপ করে ঘুরপথে আয়ের ভাবনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের!
-
কবে থেকে কমছে ২৫% শুল্ক? জানাল আমেরিকা! রুশ তেল নিয়ে সিদ্ধান্ত দেশীয় সংস্থাগুলির দিকে ঠেলল মোদী সরকার