হরমুজ় প্রণালী ফের সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার হুমকি দিয়েছে ইরান। তবে এই সিদ্ধান্ত আর সমর্থন করছে না রাশিয়া। মস্কো জানিয়ে দিয়েছে, তারা হরমুজ় প্রণালীতে যে কোনও ধরনের অবরোধের বিরুদ্ধে। তবে সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই এই বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছে তারা।
সম্প্রতি ভারত-সহ কিছু দেশের জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে দিয়েছে ইরান। তবে রবিবারই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা আবার হরমুজ়কে সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করে দেবে। আমেরিকা ইরানের হামলার হুমকি দেওয়ার পরই এই হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান। তবে তেহরানের এই সিদ্ধান্তে সমর্থন নেই রাশিয়ার। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে তারা। তবে ইরানের সেই ‘বন্ধু’ দেশ এ বার জানিয়ে দিল, জলপথ অবরোধকে তারা কোনও ভাবেই সমর্থন করছে না। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মস্কোর এই অবস্থান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ইতিমধ্যে চতুর্থ সপ্তাহে পড়ে গিয়েছে। সংঘর্ষ শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালীকে দৃশ্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। কূটনৈতিক আলাপ আলোচনার পরে কিছু ভারতীয় জাহাজকে নিরাপদে হরমুজ় প্রণালী পার করতে দিয়েছে ইরান। চিন, পাকিস্তান, তুরস্ক, জাপানের জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী পার করার ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে ইরান। দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স এবং ইতালিও ইরানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’ সম্প্রতি দাবি করে, আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার পথে যেতে চাইছে রাশিয়া। আমেরিকা যদি ইউক্রেনকে সাহায্য করা বন্ধ করে দেয়, তবে রাশিয়াও ইরানের পাশ থেকে সরে দাঁড়াবে। মস্কো থেকে এমনটাই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয় ওই রিপোর্টে। একই সঙ্গে এ-ও বলা হয়, আমেরিকা সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে। যদিও রাশিয়ার দাবি, এমন কোনও প্রস্তাবই দেওয়া হয়নি আমেরিকাকে। এর পরে ইরানি নববর্ষের শুভেচ্ছাবার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, তেহরানের বিশ্বস্ত বন্ধু হল মস্কো। ইরানের কঠিন সময়ে ভরসাযোগ্য বন্ধু রাশিয়া পাশে থাকবে, এই বার্তাও দেন তিনি। তবে এ বার রাশিয়া জানিয়ে দিল, গুরুত্বপূর্ণ ওই জলপথ অবরোধে তাদের সমর্থন নেই।