পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ভূমিকা নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছিল। এ বার যখন যুদ্ধে ইতি পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখন ফের আলোচনায় উঠে এল সৌদি আরব। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন সৌদির যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সলমন। নিউ ইয়র্ক টাইম্স-এর এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হচ্ছে। রিপোর্টে বলা হচ্ছে, সলমন ট্রাম্পকে বোঝাতে চাইছেন যে মার্কিন-ইজ়রায়েলি অভিযান পশ্চিম এশিয়াকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর এক ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ এনে দিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পরে মার্চের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনও সলমনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ইরানে হামলার উস্কানি দিতে ট্রাম্পকে ঘন ঘন ফোন করেছিলেন সৌদির যুবরাজ। এ বার নিউ ইয়র্ক টাইম্স-ও জানাচ্ছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক বার কথা বলেছেন সলমন। তিনি ট্রাম্পকে এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে ইরানের ‘কট্টরপন্থী’ শাসনকে ধ্বংস করা প্রয়োজন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন। কখনও তিনি বলেছেন, এই সংঘর্ষ আর খুব বেশি দিন চলবে না। আবার কখনও বলেছেন, সংঘর্ষ দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। তবে দু’দিন আগে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনা শুরু হয়েছে। দু’পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক পর্বে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ অবস্থায় ফের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সলমনের পরামর্শের কথা প্রকাশ্যে এল।
নিউ ইয়র্ক টাইম্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক কারণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কারণেও ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের একের পর এক হামলার জেরে হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি ক্ষেত্রে দৃশ্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। সৌদি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েতের তেল এই জলপথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। হরমুজ়কে এড়ানোর জন্য সৌদি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পাইপলাইনও তৈরি করেছে। কিন্তু সেই বিকল্প পথগুলিতেও আক্রমণ হচ্ছে বলে অভিযোগ।
গতকালই ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার জানানো হয়, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই সংঘর্ষে জড়ানোর প্রায় দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যুদ্ধের ফলে সৌদির যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তিত সলমনও। কিন্তু সংঘর্ষের এই পরিস্থিতিতে সব কিছু থেমে যাওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি। সলমনের আশঙ্কা, এই মুহূর্তে আমেরিকা যুদ্ধ থামিয়ে পিছু হটলে ইরানের ক্রোধ এসে পড়বে সৌদি-সহ পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার বন্ধু দেশগুলির উপরে। এবং তখন ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সাহায্য ছাড়া একাই লড়তে হবে তাদের। বিশ্লেষকদের অনুমান, সম্ভবত সেই আশঙ্কা থেকেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সৌদির যুবরাজ। যদিও তাঁদের মধ্যে কী নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে তা প্রকাশ্যে আসেনি। রিয়াধও কিছু জানায়নি। হোয়াইট হাউসও বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কথোপকথন নিয়ে তারা কোনও মন্তব্য করবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
আমেরিকার হৃৎস্পন্দন বন্ধের হুঙ্কার, হরমুজ়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ধ্বংসে ‘আত্মঘাতী তিমি’দের নামাচ্ছে ইরান!
-
ইরানের বন্দরে একের পর এক জাহাজে আগুন! লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা ইজ়রায়েলের, পশ্চিম এশিয়ায় আবার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
-
‘আমেরিকার সামনে দুই বিকল্প, বলও ওদের কোর্টে’! যুদ্ধ নিয়ে প্রস্তাব ফেরাতেই ট্রাম্পকে বার্তা ইরানের, কোন দিকে ইঙ্গিত
-
‘আমরা জলদস্যুই’! হরমুজ়ে ইরানি জাহাজের ‘দখল’ প্রসঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশংসা করলেন ট্রাম্প