ডোনাল্ড ট্রাম্প যতই দাবি করুন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি’ পৌঁছোতে পারেনি আমেরিকা। বরং তৃতীয় সপ্তাহের পর যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ হাতছাড়া হচ্ছে পেন্টাগনের। হোয়াইট হাউসের চেষ্টা সত্ত্বেও বিশ্বে জ্বালানির দাম এখনও ঊর্ধ্বমুখী। তা ছাড়া বার বার আর্জি জানিয়েও (কখনও হুমকি দিয়েও) মিত্ররাষ্ট্রগুলির সামরিক সহায়তা পায়নি আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের অনেকেই মনে করছেন, এখন আর যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করার জায়গায় নেই আমেরিকা।
অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্প ইরান প্রশ্নে আগ্রাসী নীতি নিয়ে চলার ইঙ্গিত দিলেও কার্যক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হয়েছে। পাল্টা আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছে তেহরানও। সম্প্রতি ট্রাম্প হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ় প্রণালী না খুলে দেয়, তা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। আর তার পরই পাল্টা হুমকি দেয় ইরান। তেহরানের তরফে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার ঘনিষ্ঠ দেশগুলিতেও হামলা আরও জোরালো করা হবে। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে আমেরিকা পরিচালিত বহু তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, তৈল শোধনাগার এবং পানীয় জল পরিশোধন সংস্থাও রয়েছে। এ বার সেগুলিকেও নিশানা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
শনিবার চার হাজার কিলোমিটার দূরে সুদূর ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ মার্কিন ঘাঁটি দিয়েগো গ্রাসিয়াকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। একটি নয়, পর পর দু’টি! এর আগে এত দূরের লক্ষ্যে কখনও নিশানা করেনি তেহরান। অনেকের মতে, দিয়েগো গ্রাসিয়াকে যদি ইরান নিশানা করতে পারে, তাদের আক্রমণের নাগালে চলে আসতে বাধ্য লন্ডন কিংবা প্যারিসের মতো শহর। এমনকি, সে ক্ষেত্রে ইউরোপের অধিকাংশই ইরানের আক্রমণের পরিধিতে চলে আসবে। যে কোনও মুহূর্তে যে কোনও ছোট বা বড় শহরের উপর এসে পড়তে পারে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র। হতে পারে বহু মৃত্যু! ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অভিযানকে সমর্থন করার ক্ষেত্রেও তাই এখন বার বার ভাবতে হবে ইউরোপীয় দেশগুলিকে।