ইরানের সঙ্গে শান্তিবৈঠকের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মাঝেই পশ্চিম এশিয়ায় আরও সেনা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু কে দিল আমেরিকা। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিতে চলেছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শান্তিবৈঠক হবে। সেখানে ইতিমধ্যেই দু’দেশের প্রতিনিধি দল পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু শান্তিবৈঠক শুরু আগেই বিবিন্ন সংবাদংমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ায় আরও সেনা পাঠাতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশ্ন জোরালো হতে শুরু করেছে, তা হলে কি এই বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কাতেই ট্রাম্পের এই প্রস্তুতি?
শান্তিবৈঠকের আগে ট্রাম্প একের পর এক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কখনও বলেছেন, ইরানের হাতে আর কোনও রাস্তা নেই। এই শান্তিবৈঠকের জন্যই ওরা পৃথিবীতে টিকে রয়েছে। আবার কখনও বলেছেন, যে ভাবেই হোক হরমুজ় প্রণালী দখলমুক্ত করে ছাড়বেন। তা সে ইরান থাকুক বা না থাকুক। ফলত, শান্তিবৈঠকের আগে থেকেই একটা উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। আর তা থেকেই অনেকের ধারণা, আমেরিকা যদি ইরানের শর্ত মানতে রাজি না হয়, তা হলে ফের সামরিক সংঘাতের রাস্তায় নামতে পারে দুই দেশ। আর সেটা আঁচ করতে পেরেই ইরানে আরও সেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরও যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় পাঠিয়েছে আমেরিকা। এ ছাড়াও মার্কিন সেনা ৮২ এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ১৫০০-২০০০ সেনাও খুব শীঘ্রই ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মার্কিন রণতরী ইউএসএসজর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং ইউএসএস বক্সা ১১ মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে রওনা হয়েছে। ওই অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। সেই সংখ্যা ৫০ হাজারও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, যদি কোনও ভাবে আলোচনা ব্যর্থ হয়, তা হলে সেনা অভিযান ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকবে না। ফলে ইরান-আমেরিকার সম্পর্ক কোন দিকে গড়াবে তা নিয়েই বিশ্বমহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
মার্কিন আইনসভায় জোর ধাক্কা ট্রাম্পের! ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ক্ষমতা ‘খর্ব’ করতে প্রস্তাব পাশ, দ্রুত বাহিনী সরানোর নির্দেশ
-
মোজতবা জীবিতই, শান্তিচুক্তির আলোচনাতে যোগও দিচ্ছেন! দাবি রুবিয়োর, ইরানের উপর বিধিনিষেধ কি তুলবেন ট্রাম্প?
-
সংঘর্ষবিরতি, ৩০ হাজার কোটির বিনিয়োগ পরিকল্পনা! আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাতের অবসানে খসড়া চুক্তিতে আর কী রয়েছে?
-
‘চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, ঘোষণার অপেক্ষা’! সমঝোতা প্রসঙ্গে দাবি ট্রাম্পের, জানান, খুলবে হরমুজ়! কী মত ইরানের
-
সুযোগ পেলেই চোরাগোপ্তা হামলা! সাবেক পারস্যের হাতে মার খাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে ‘নিরীহ’ আরব রাষ্ট্র