৩০ দিন ধরে চলছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধের খরচও বাড়ছে। আর এই খরচের কারণে মার্কিন সরকারের ভাঁড়ারে টান পড়তে পারে। এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটের কথায়। কী ভাবে ইরান যুদ্ধের আর্থিক বোঝা কমানো যায়, সে প্রসঙ্গে লেভিট জানান, এ ব্যাপারে হয়তো আরব দেশগুলির থেকে সাহায্য চাইতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত সপ্তাহেই পাকিস্তান মারফত ইরানের কাছে ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই প্রস্তাবের প্রাপ্তিস্বীকারও করে ইরান। জানায়, তারা ওই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছে। তবে ইরানও কিছু দাবিদাওয়া রেখেছে। ইতিমধ্যেই ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না-হলে তারা এই সংঘাত থেকে সরে আসতে প্রস্তুত নয়।
মার্কিন প্রশাসন আদৌ ইরানের শর্ত মানবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অনেকে এ-ও আশঙ্কা করছেন, পাকিস্তানে হওয়া আলোচনা যদি ভেস্তে যায়, তবে যুদ্ধ আরও কিছু দিন চলতে পারে। আর তাতে আমেরিকার উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। কী ভাবে সেই আর্থিক বোঝা কমানো যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভাবনাচিন্তা শুরু হয়ে গিয়েছে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে। লেভিট জানান, ট্রাম্প হয়তো যুদ্ধের খরচ মেটাতে আরব ‘বন্ধু’দের কাছে সাহায্যের জন্য ‘আগ্রহী’ হতে পারেন। নব্বইয়ের দশকে উপসাগরীয় যুদ্ধে আমেরিকার খরচের একটি বড় অংশ আরব দেশগুলি বহন করেছিল। এ বারও কি তেমন কোনও পন্থা নেওয়া হবে? সাংবাদিকদের প্রশ্নে লেভিট বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো তাদেরকে (আরব দেশগুলিকে) এই কাজ করার আহ্বান জানাতে আগ্রহী হবেন।’’
আরও পড়ুন:
তবে লেভিট আশাবাদী, ইরান প্রকাশ্যে যতই হুঁশিয়ারি দিক, আলোচনা ইতিবাচক হবে। তাঁর কথায়, ‘‘প্রকাশ্যে যা বলা হচ্ছে, আর আমাদের যা জানানো হচ্ছে, দু’টো একেবারেই ভিন্ন।’’ ইরান যুদ্ধ আর কত দিন চলবে? সেই প্রশ্নের উত্তরে লেভিট মনে করিয়ে দেন, ‘‘ট্রাম্প শুরু থেকেই বলে আসছেন যুদ্ধ চার থেকে ছ’সপ্তাহের বেশি চলবে না। সেই সময়সীমার কোনও পরিবর্তন হয়নি।’’