আগামী জুলাই মাসে সেক্টর ফাইভ থেকে সল্টলেক স্টেডিয়ামের মধ্যে পরিষেবা চালু করতে চান ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো কর্তৃপক্ষ। তার তিন মাসের মধ্যে অর্থাৎ পুজোর আগেই ফুলবাগান স্টেশন পর্যন্ত সেই পরিষেবা সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের।

শুক্রবার, সল্টলেক স্টেডিয়াম থেকে মাটির নীচে ফুলবাগান স্টেশন পেরিয়ে শিয়ালদহ স্টেশনের পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সফল পরীক্ষামূলক দৌড়ের পরে এমন আশা করছেন ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

এ দিন বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর একটি বাতানুকূল রেক সুভাষ সরোবরের কাছে ভূগর্ভস্থ পথ দিয়ে প্রথমে ফুলবাগান স্টেশনে পৌঁছয়। পরে ওই ট্রেনটি ফুলবাগান পেরিয়ে নির্মীয়মাণ শিয়ালদহ মেট্রো স্টেশনের পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত গিয়ে আবার পাশের লাইন দিয়ে ফিরে আসে।

মেট্রোকর্তাদের দাবি, প্রায় ২৪ বছর পরে কলকাতার নতুন কোনও মেট্রোপথে ভূগর্ভে ট্রেন চলল। এর আগে ১৯৯৪ সালে উত্তর-দক্ষিণ মেট্রো সম্প্রসারিত হওয়ার সময়ে বেলগাছিয়া দিয়ে সুড়ঙ্গপথে দমদমের দিকে এগিয়ে ছিল মেট্রো। তার পরে কলকাতা উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর যতটুকু সম্প্রসারণের কাজ হয়েছে তার সবটুকুই মাটির উপরে বলে দাবি মেট্রো কর্তৃপক্ষের।

২০১৩ সালে ফুলবাগান মেট্রো স্টেশনের নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কাজ অনেকটা এগিয়ে গেলেও শিয়ালদহে ট্রেনের অভিমুখ পরিবর্তন করার জন্য ক্রসওভার তৈরির জমি নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়। তাতে মেট্রো পথ নির্মাণের কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। এমনকি প্রথম পর্বে সেক্টর-৫ থেকে ফুলবাগান পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত থেকেও পিছিয়ে আসতে হয় মেট্রো কর্তৃপক্ষকে। গত বছরের জুলাই থেকে সেক্টর-৫ এবং সল্টলেক স্টেডিয়ামের মধ্যে সাড়ে ৪ কিলোমিটার মেট্রো পথে নাগাড়ে পরীক্ষামূলক ভাবে ট্রেন চালাচ্ছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। নানা জটিলতা কাটিয়ে ওই পথে পরিষেবা শুরু করার প্রস্তুতি প্রায় সারা। তার মধ্যেই ফুলবাগান পর্যন্ত মেট্রোর পরীক্ষামূলক দৌড় এ দিন শুরু করতে পারায় আশার আলো দেখেছেন মেট্রোকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেট্রোকর্তা বলেন, ‘‘শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠাটাই সব থেকে কঠিন ছিল। সেটা যখন এক বার করা গিয়েছে তখন বাকি পথ পার হতে সমস্যা হবে না।’’

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো সূত্রে খবর, শিয়ালদহে স্টেশনের পরিকাঠামো তৈরির কাজও অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। পূর্ব প্রান্তের কাজ প্রায় সারা। তবে এসপ্লানেড থেকে শিয়ালদহমুখী সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ চলায় স্টেশন তৈরির কাজ এখনই সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়। সে জন্য আরও বছর দেড়েক অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে চলতি বছরেই পুজোর আগে সেক্টর ফাইভ থেকে ফুলবাগান পর্যন্ত মেট্রোয় যাত্রীরা সফর করতে পারবেন, এমনটাই বলছেন মেট্রোকর্তারা।

এ দিন মাটির প্রায় প্রায় ১৭ মিটার নীচে ফুলবাগান স্টেশন থেকে যাত্রা মসৃণ করতে মেট্রো কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট তৎপরতা ছিল। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মানস সরকার এবং রোলিং স্টক বিভাগের অধিকর্তা অনুপকুমার কুন্ডুর তত্ত্বাবধানে সকালে অ্যালুমিনিয়ামের থার্ড রেলে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার আগে একাধিক বার লাইন পরীক্ষা করা হয়। পরে বার চারেক ট্রলি চালিয়ে দেখা হয়। শেষে সাড়ে ১২টা নাগাদ ট্রেন চলে।

মেট্রোকর্তাদের দাবি, এ দিন থেকে ফুলবাগান পর্যন্ত মেট্রোপথে শুরু হওয়া পরীক্ষামূলক দৌড় এখন নাগাড়ে চলবে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পরিষেবা শুরুর যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলা হবে।