Advertisement
E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু

মানুষেও এ ধরনের গুজব শুনলেই সবাই মিলে বিশ্বাস করছেন কেন, এটাও এক অবাক কাণ্ড। সরকার এই বিষয়ে জানে না, নাকি জেনেও স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি (এটা সত্যি না মিথ্যে) দিতে গড়িমসি করছে?

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০১৮ ০০:৫১

এক টাকার কয়েন

কয়েক মাস আগে হঠাৎই বাজারে গুজব ছড়াল, ১০ টাকার কয়েন নাকি জাল। অতএব হাটে-বাজারে, বাসে বা যে কোনও যানবাহনে আর কেউই ১০ টাকার কয়েন নিতে চান না। অনেক টানাপড়েনের পরে আরবিআই বিভিন্ন ভাবে প্রচার শুরু করল যে ১০ টাকার কয়েন কোনও ভাবেই অচল নয়। তখন ঝামেলা মিটল।

আবার এখন নতুন করে শুরু হয়েছে, ছোট আকারের ১ টাকার মুদ্রা নিয়ে ঝামেলা। এই কয়েন বাজারে দোকানি নিচ্ছেন না। বাসে কন্ডাক্টর বা টোটো-য় চালক, সবাই নিতে অস্বীকার করছেন। ৫০ পয়সার কথা তো বাদই দিলাম। ভিখারির কাছেও সে প্রত্যাখ্যান পাচ্ছে। কে বা কারা মাঝে মাঝেই এই ধরনের গুজব ছড়িয়ে, সরকারি কোষাগার স্বীকৃত পয়সা নিতে অস্বীকার করার দিকে সাধারণ মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে এবং এই ভাবে সবাইকে হেনস্তা করছে, তা খুঁজে বের করা দরকার।

Advertisement

মানুষেও এ ধরনের গুজব শুনলেই সবাই মিলে বিশ্বাস করছেন কেন, এটাও এক অবাক কাণ্ড। সরকার এই বিষয়ে জানে না, নাকি জেনেও স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি (এটা সত্যি না মিথ্যে) দিতে গড়িমসি করছে?

হৃষীকেশ বসাক কাঁকসা, পানাগড়, পশ্চিম বর্ধমান

যাচ্ছে কোথায়

রিজার্ভ ব্যাংক যে ২০০ আর ৫০ টাকার নোট ছাপিয়েছে সেগুলো কি জাদুকর ম্যানড্রেক বাজার থেকে ভ্যানিশ করে দিয়েছে? টাকা তোলার সময় কোনও ব্যাংকের কাউন্টার থেকে ওগুলো পাবেন না, সাধারণ মানুষের কারও কাছে দেখতেও পাবেন না, তা হলে কোথায় যাচ্ছে নোটগুলো? এর আগে নোটবন্দির সময় নতুন ৫০০ টাকার নোট নিয়েও এই রকম সমস্যা হয়েছিল।

অরূপরতন আইচ কোন্নগর, হুগলি

চুপকথা

আজ মেয়েরা আগের তুলনায় অবশ্যই অনেক বেশি করে নানা ধরনের কর্মক্ষেত্রে আসছে, পড়াশোনা শেষ করে তবেই বিয়ের কথা ভাবছে, আর্থিক স্বনির্ভরতা সম্পর্কে সচেতনতাও বাড়ছে, কিন্তু মেয়েদের মনের ধাঁচাটার পরিবর্তন ঘটছে কি?

ঈশা দাশগুপ্ত তাঁর নিবন্ধে (‘রূপকথা আর চুপ-কথা’, ১৯-১২) লিখছেন, ‘কিশোরী কন্যাসন্তানকে ছোটবেলা থেকে বিয়ের স্বপ্ন দেখানো, বা আরও স্পষ্ট ভাবে বলতে গেলে, বড়লোক বরের স্বপ্ন দেখাতে বাকি রাখেন ক’জন মা?’ এই স্বপ্ন কঠিন বাস্তবের চাপে ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার কিছু করুণ কাহিনি ও পরিসংখ্যান আছে লেখাটিতে। কিন্তু স্বপ্ন যেখানে সত্যি হয়, যেখানে মা-বাবা বা নিজের নির্বাচন করা মোটা মাইনের রাজপুত্রের ঘরনি হওয়ার সুযোগ মেলে? সেখানেও কি সার্থক হয় মেয়েদের মানবজন্ম?

বিয়ের স্বপ্ন দেখানো তো একটা দিক মাত্র। টিভিতে নিউজ চ্যানেল স্কিপ করে ফ্যাশন আপডেট, ঘর সাজানোর টিপস আর রেসিপি টোকা, নিয়মিত পার্লারে গিয়ে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ চকচকে করে তোলা, কোন আউটফিট আর কোন মেক-আপে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলা যাবে সেই চিন্তায় ডুবে থাকা— এই অন্তঃসারশূন্য বহিরঙ্গের চর্চাই মেয়েদের অস্তিত্বের শর্ত হয়ে দাঁড়ায় শতকরা নিরানব্বই ভাগ ক্ষেত্রেই। এ জিনিসটা শুধু আর্থিক বা শিক্ষাগত পশ্চাদপদতার সঙ্গে যুক্ত না। চব্বিশ ঘণ্টা যাঁরা পুরুষতন্ত্রের মুন্ডুপাত করছেন, যাঁরা যথেষ্ট শিক্ষা ও যোগ্যতা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে আছেন, সেই মেয়েরাও অজান্তেই এই পণ্যপ্রধান সমাজের মনের মতো করেই গড়ে তুলছেন নিজেদের।

আর সেই সুযোগে কখন আঙুলের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে মহামূল্য জীবন। যে জীবনে বহু কিছু জানার-বোঝার-শেখার ছিল, সৃষ্টি করার ছিল। প্রচলিত সমাজের মেয়েসুলভ ছাঁচের বাইরে গিয়ে অন্য ভাবে বাঁচার এই লড়াই একটি মেয়ের অন্তরের, বোধের লড়াই। তার হয়ে অন্য কেউ এই অধিকার এনে দিতে পারবে না।

সঙ্ঘমিত্রা চট্টোপাধ্যায় কলকাতা-৭৭

বাজারের নীতি

বিশ্ব ব্যাংকের প্রাক্তন মুখ্য অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুর সাক্ষাৎকার ‘বাজারকে সংযত করতে পারে ক্রেতার নৈতিকতা’ (৩০-১২) বাজারের সহনশীল স্থিতাবস্থাকেই স্বীকৃতি দিয়েছে। নীতি বা নৈতিকতা বিষয়ে বাজারের বর্তমান চালিকাশক্তি বা ক্ষমতার কথাই প্রাধান্য পাওয়ায় বক্তব্য একপেশে হয়ে গেছে। নতুন কোনও দিশা পাওয়া গেল না। নৈতিকতা বলতে কৌশিকবাবু মানুষের ভিতরেই ‘ঠিক-ভুল’-এর ধারণাকে মান্যতা দিয়েছেন। কিন্তু গণতন্ত্রে এই মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকার অধিকারের সুষম বণ্টনের সুযোগ থাকলেও, বাস্তবে এতই অভাব, যে ‘ঠিক-ভুল’ ধারণাকে মাপকাঠি ধরা যুক্তিসংগত হবে না। এই ব্যক্তিমানুষ কার্যত অসহায়, বিরাট বাজারের অসংখ্য প্রচণ্ড ‘অদৃশ্য হাত’-এর কাছে। ক্ষমতার রাজনীতিতে ব্যক্তিমানুষের অর্থনীতি হাজার প্রতিশ্রুতি পায়। অথচ বাস্তব পরিস্থিতি ক্রমশ জানায়, সংবিধানপ্রদত্ত খাতায়-কলমে নাগরিক অধিকার থেকে অনেক দূরে তার অবস্থান। তখন তার রাষ্ট্রনৈতিক আস্থা, রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তি দুর্বল হয়। সেই সঙ্গে নৈতিকতার বিচার নিজেই নিজের মতো তৈরি করে নেয়, যা রাষ্ট্রীয় বিচারে অনৈতিক কি না প্রশ্ন ওঠে।

আবার, যে বাজারকে ভাবা হয়েছিল নিজেই নিজেকে ক্রমাগত সংশোধিত, সুরক্ষিত করবে, একটা বাজারি আদর্শের কথাও প্রচারিত হয়েছিল— তারই বা কী দশা? এই বাজারও এমন উন্নত নয় যে উল্লিখিত ক্রেতার সুরক্ষা অনেকটাই নিশ্চিত ভাবা যাচ্ছে। সাধারণ ক্রেতা প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে বাজারে পণ্যের ঘোষিত উপযোগিতা থেকে। আলোচনায় এই বিচার না এলে নীতি বা নৈতিকতার অনেক কিছুই উপেক্ষিত থেকে যায়।

এই সামগ্রিক ব্যবস্থায় ক্রেতার নৈতিকতার উপর সব দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছেন কৌশিকবাবু। অসম বণ্টন আর ক্রমবর্ধমান আর্থিক সক্ষমতার ব্যবস্থায় দিশেহারা ক্রেতা কী ভাবে বাজারকে সংযত করবে? দু-একটা যা উদাহরণ দেওয়া হচ্ছে, তা বাজারে বড় মাপের বিক্রেতার নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ফল। বিশ্বব্যাপী মন্দা এখনও চলছে। এই মন্দায় সংকটগ্রস্ত পুঁজি যে বাজার তৈরি করছে তার মধ্যে নীতি বা নৈতিকতার অবস্থান কোথায়, সেই বিচার দেখতে পাওয়া গেল না সাক্ষাৎকারে। তা হলে কৌশিকবাবু শেষে অসাম্য কমাতে যে চেষ্টা শুরুর কথা বলেছেন তা শুরু হবে কোথায়? বিড়াল একটা না অসংখ্য? কী ভাবে ঘণ্টা বাঁধা হবে? সেই ঘণ্টাই বা কেমন হবে? সাক্ষাৎকারে শুধু ক্রেতার গলায় ঘণ্টা বাঁধার কথা আছে। নীতি বা নৈতিকতার আলোচনায় বিক্রেতার গলা বাদ গেল কেন?

শুভ্রাংশুকুমার রায় চন্দননগর, হুগলি

বিজ্ঞানী

বিজ্ঞানী শংকর চক্রবর্তীকে জেনেছিলাম ছাত্রজীবনে। এই বছর ২-৪ জানুয়ারি পশ্চিম মেদিনীপুরে বেলদা গঙ্গাধর অ্যাকাডেমির ১০০ বছর উদ্‌যাপন হল। এই স্কুলে আমি পড়েছি। এখানে বিজ্ঞান প্রদর্শনী, বক্তৃতার আয়োজন হত, স্কুলের শিক্ষকের উদ্যোগে ও পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পৃষ্ঠপোষকতায়। এক বার বিজ্ঞানী শংকর চক্রবর্তী এসেছিলেন, বক্তৃতা দিয়েছিলেন। যখন ক্লাস ইলেভেন-এ পড়ি, এক গৃহশিক্ষক আমাকে শংকরবাবুর লেখা একটা বই দেন: ‘মহাবিশ্বে আমরা কি নিঃসঙ্গ?’ অসামান্য বইটিতে মহাবিশ্বের শুরু, নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যু, কৃষ্ণ গহ্বর, আলোর প্রকৃতি, স্পেস-টাইম, সৌরজগতের বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব, নক্ষত্র জগৎ, ইত্যাদি বিষয়ে জানতে পেরেছিলাম। এমন এক বিজ্ঞানী, যিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা ও প্রচারের কাজ সারা জীবন ধরে করেছেন, সম্প্রতি মারা গেলেন।

সমরেশকুমার দাস আইজল, মিজোরাম

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy