Advertisement
E-Paper

পায়ে হাওয়াই চটি, বেল্ট খুলে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে এসএসসির গ্রুপ সি পরীক্ষা শুরু

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে চাকরিহারা 'যোগ্য' শিক্ষাকর্মীরা যেমন পরীক্ষা দিচ্ছেন, তেমনই বহু দিন বাদে স্কুলস্তরে শিক্ষাকর্মী নিয়োগের কারণে নতুন চাকরিপ্রার্থীরাও পরীক্ষা দিচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন ভিনরাজ্যের প্রায় দু'হাজারের মতো চাকরিপ্রার্থীও।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ ১২:৫৮
নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব চিত্র।

শিক্ষক নিয়োগের পর এ বার শিক্ষাকর্মী নিয়োগের পরীক্ষা স্কুল সার্ভিস কমিশনের। শুরু হল কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে এলেন হাওয়াই চটি পরে। এমনকি, বেল্ট বা চামড়ার জিনিস নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হল না। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে করা হল দেহতল্লাশি।

এক দিকে যেমন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে চাকরিহারা 'যোগ্য' শিক্ষাকর্মীরা পরীক্ষা দিচ্ছেন, তেমনই আবার বহু দিন বাদে স্কুলস্তরে শিক্ষাকর্মী নিয়োগের কারণে নতুন চাকরিপ্রার্থীরাও পরীক্ষা দিচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন ভিনরাজ্যের প্রায় দু'হাজারের মতো চাকরিপ্রার্থীও। সারা রাজ্যে ১২০০-র মতো 'যোগ্য' গ্রুপ সি কর্মী পরীক্ষা দিচ্ছেন বলে কমিশন সূত্রের খবর।

বনগাঁর চাঁদপাড়ার বাসিন্দা পূরবী মণ্ডল ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে স্কুলের শিক্ষাকর্মীপদে চাকরি পেয়েছিলেন। সাত বছর চাকরি করার পর ২০২৫ সালে ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁর চাকরি বাতিল হয়। তার পর থেকে বেতনহীন পূরবী কোনও রকমে সংসার চালাচ্ছিলেন। আর্থিক অনটনের মধ্যে ফের পরীক্ষার প্রস্তুতিও নেন। কিন্তু আবার সাফল্য আসবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। পূরবী বলেন, "আমি নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছিলাম। সম্মানের সঙ্গে চাকরি করতাম। এসএসসি ও কিছু নেতার দুর্নীতির কারণে আজ আমি বেকার। নতুনদের সঙ্গে চাকরির প্রতিযোগিতায় চাকরি ফিরে পাব কি না জানা নেই। 'যোগ্য' হয়েও আমাকে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হচ্ছে আবার।"

Advertisement

স্কুলের শিক্ষাকর্মী পদে চাকরি করবেন বলে ইচ্ছা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে নিয়োগের পরীক্ষা না হওয়ায় হতাশ নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, তাঁদের এক অসম লড়াই লড়তে হচ্ছে চাকরিহারাদের সঙ্গে। কারণ, তাঁদের অভিজ্ঞতার জন্য ৫ নম্বর করে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হচ্ছে। শ্যামনগরের বাসিন্দা শ্রীপর্ণা চট্টোপাধ্যায় বলেন, "চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দীর্ঘ দিন বাদে স্কুলস্তরে শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। যদি নতুন করে দুর্নীতি না হয়, আশা করি, পরীক্ষা ভাল হবে।"

প্রিয়দর্শনী চক্রবর্তী দক্ষিণেশ্বর থেকে এসেছেন। তিনি বলেন, "সরকার ও কমিশনের গাফিলতির কারণে আজ আমাদের পরীক্ষা হলেও লড়াইটা কঠিন। পুরনোরা পাঁচ নম্বর অতিরিক্ত পাওয়ায় এগিয়ে পরীক্ষার আগেই। নতুনেরা চাকরি পেলে যুবসাথিতে লাইন কম পড়বে।"

গ্রুপ সি-তে শূন্যপদের সংখ্যা ২৯৮৯। রাজ্য জুড়ে ১৬৯৩টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। ৬০ নম্বরের এই পরীক্ষা শুরু হয়েছে বেলা ১২টায়। শেষ হওয়ার কথা ১টা ৫০ মিনিটে।

WBSSC Group C
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy