আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগ্জ়ামিনেশন (জেইই) অ্যাডভান্সড-এ। অন্তত এমনই ইঙ্গিত মিলছে আইআইটি কাউন্সিলের বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে। পরীক্ষার্থীদের চাপমুক্ত করতে উদ্যোগী দেশের বিভিন্ন আইআইটি। একইসঙ্গে পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিং সেন্টারের উপর অতিনির্ভরতাতেও রাশ টানতে চায় আইআইটিগুলি।
গত বছর ২৫ অগস্ট দেশের বিভিন্ন আইআইটি একযোগে আইআইটি কাউন্সিল বৈঠকের আয়োজন করে। মঙ্গলবার তারই কার্যবিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেখানেই আইআইটি কানপুরের অধিকর্তা মহীন্দ্র আগরওয়াল জেইই অ্যাডভান্সড-এর পরীক্ষা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। উল্লেখ করেন, পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দেশ জুড়ে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের রমরমার কথা। যার ফলে ব্যাপক ভাবে অর্থনৈতিক এবং মানসিক চাপের সম্মুখীন হয় পড়ুয়াদের পরিবার। পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং ফলাফল নিয়ে মানসিক উদ্বেগে থাকেন পরীক্ষার্থীরাও। তাই জেইই অ্যাডভান্সড-এর মাধ্যমে আইআইটিগুলিতে বিটেক-এ ভর্তি প্রক্রিয়া আরও সহজ করার প্রস্তাব দেন তিনি। যা অনেক বেশি ছাত্রবান্ধব হবে।
আরও পড়ুন:
এ বার কাউন্সিলের বৈঠকে পরীক্ষায় বিকল্প পদ্ধতির কথাও বলেন আগরওয়াল। জানান, জেইই অ্যাডভান্সড-এর প্রশ্নে পড়ুয়াদের বিশ্লেষণী চিন্তা এবং যুক্তিবুদ্ধি খতিয়ে দেখা উচিত। যা ভবিষ্যত কর্মক্ষেত্রে তাঁদের কাজে আসবে। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করার কথাও বলেন।
বৈঠক শেষে আইআইটি কাউন্সিল পাঁচটি ধাপে পরীক্ষার নতুন মডেল চালু করার সুপারিশ দিয়েছে। জানিয়েছে, প্রথমে জয়েন্ট অ্যাডমিশন বোর্ড (জ্যাব) এবং আইআইটি কানপুরের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি ‘অ্যাডাপ্টিভ টেস্টিং’-এর বিষয়টি যাচাই করে দেখবে। এর পর জেইই অ্যাডভান্সড-এর মূল পরীক্ষার দু’মাস আগে একটি ঐচ্ছিক এবং পরীক্ষার্থীর ক্ষমতা অনুযায়ী এই মক পরীক্ষা নেওয়া হবে। কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে, পরীক্ষার্থীর ক্ষমতার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় ভাবে পরবর্তী প্রশ্ন স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। এর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের ভুল নিজেরাই চিহ্নিত করে তা শুধরে নিতে পারবেন। এই পরীক্ষার ভিত্তিতেই কমিটি পারফরমেন্স ডেটা প্রস্তুত করবে। এর পর ওই পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে জেইই অ্যাডভান্সড-এর মূল পরীক্ষার ফল তুলনা করে দেখা হবে। এর ভিত্তিতেই কমিটির তরফে মূল পরীক্ষা আয়োজনের কার্যকারিতা এবং পরীক্ষার্থীদের উপর প্রভাব খতিয়ে দেখা হবে। এর পর ভবিষ্যতে জেইই অ্যাডভান্সড-এ কী কী বদল আনা যেতে পারে, তা স্থির করা হবে।
আরও পড়ুন:
-
আইআইটি খড়্গপুরে শিক্ষকতার সুযোগ, কোন কোন ফ্যাকাল্টির জন্য করা যাবে আবেদন?
-
বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরের সুযোগ, ভর্তির তৃতীয় রাউন্ডের কাউন্সেলিং কবে?
-
বিধাননগরের স্বাস্থ্যভবনে কর্মীর খোঁজ, কোন পদে, কেমন যোগ্যতা থাকলে আবেদন করা যাবে?
-
সমাজসেবার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে পাঠ্য বিষয়েই! মিলবে কি উপযুক্ত রোজগারের দিশা?
এ ছাড়াও ভবিষ্যতে বিভিন্ন আইআইটি-তে ‘সুপারনিউমারি’ আসন তৈরি এবং স্পোর্টস বা অন্য কোটার মাধ্যমে পড়ুয়া ভর্তির দায়িত্ব নেবে জয়েন্ট সিট অ্যালোকেশন অথরিটি, এমনই সুপারিশ দেওয়া হয় বৈঠকে।