ছাতুকে মনে করা হত দেহাতি খাবার। সমাজের উঁচু স্তরে থাকা মানুষ ছাতুর নাম শুনে নাক সিঁটকাতেন। তবে ছাতুর শরবত খেতেন তাঁরা, যাঁরা আখরায় গিয়ে মুগুর ভাজতেন, শরীরচর্চা করতেন। বছর পঞ্চাশেক আগেও শৌখিন রান্নাঘরে ছাতুর তেমন স্থান ছিল না। কিন্তু এখন হয়েছে। এখন বেশ ফলাও করেই ছাতু খাওয়ার কথা বলছেন দীপিকা পাড়ুকোন, শিল্পা শেট্টি, আয়ুষ্মান খুরানা, পঙ্কজ ত্রিপাঠীর মতো বলিউড তারকারা। কারণ, তাঁরা জেনেছেন, সুস্থ থাকার জন্য আর শরীরের গড়ন ভাল রাখার জন্য ছাতুর মতো রক্ষাকর্তা আর দু’টি নেই।
ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া হয়েই যায়। তার উপর শরীরচর্চা করার সময়ও পান না সাধারণ মানুষ। ওজন যখন বাড়ে, তখন সমাজমাধ্যমের নানা পরামর্শ মেনে কেউ বিদেশি ফল খান, কেউ খান নানা ধরনের ‘সুপারফুড’। এ দিকে সেই কোন কাল থেকে দিশি ‘সুপারফুড’ ছোলার ছাতু অবহেলায় পড়ে রয়েছে হাতের কাছেই। যা ওজন কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে। আবার পুষ্টিগুণেও ভরপুর। ডায়েটে ছাতু রাখলে ঠিক কী কী সুবিধা হতে পারে জেনে নিন।
১. দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে
ছাতুর সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর ফাইবার। যখন ছাতুর শরবত বা ছাতু দিয়ে তৈরি কোনও খাবার খাওয়া হয়, তখন তা পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ থাকে। এটি হজম হতে সময় নেয়, ফলে দীর্ঘ ক্ষণ খিদে পায় না। বারবার ভাজাভুজি বা মিষ্টির মতো অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার যে ইচ্ছা, তা নিয়ন্ত্রণ করতে ছাতু দারুণ কার্যকরী। সকালে এক গ্লাস ছাতুর শরবত খেলে দুপুর পর্যন্ত পেট ভরা থাকবে।
২. প্রোটিনের খনি
ওজন কমানোর ডায়েটে প্রোটিন অত্যন্ত অপরিহার্য, কারণ এটি পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং মেদ ঝরাতে সহায়তা করে। ছাতু উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের এক চমৎকার উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলার ছাতুতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এটি মাছ বা মাংসের প্রোটিনের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো। যারা নিরামিষাশী, তাদের জন্য এটি প্রোটিনের সেরা বিকল্প।
৩. বিপাক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে
ছাতুতে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজের মতো খনিজ উপাদান থাকে প্রচুর পরিমাণে। এই সমস্ত খনিজ বিপাকের হার বাড়িয়ে দেয়। আর বিপাক যত ভালো হবে, শরীর তত দ্রুত ক্যালোরি ঝরাতে পারবে, যা সরাসরি ওজন কমাতে সাহায্য করে।
৪. প্রাকৃতিক ডিটক্স এবং হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি
ছাতু অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে এবং শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বার করে দেয়। হজম প্রক্রিয়া উন্নত হলে শরীরের বাড়তি মেদ জমার প্রবণতা অনেকটা কমে যায়।
৫. গ্লাইসেমিক ইনডেক্স
ছাতুর ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ খুব কম। ফলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়িয়ে দেয় না। এটি দীর্ঘস্থায়ী শক্তি সরবরাহ করে, যা ব্যায়াম বা শরীরচর্চার আগে ‘প্রি-ওয়ার্কআউট ড্রিঙ্ক’ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
ডায়েটে কীভাবে রাখবেন?
ছাতুর শরবত: সামান্য নুন, লেবুর রস, জিরেগুঁড়ো এবং লঙ্কা কুচি দিয়ে ছাতুর শরবত বানিয়ে সকালে বা বিকেলে জলখাবারে খেতে পারেন।
ছাতু মাখা: চাইলে সামান্য গুড় বা ফল দিয়েও মেখে খাওয়া যায়, তবে ওজন কমানোর জন্য নুন-লেবুর শরবত বা টক দই দিয়ে মেখে খাওয়া যেতে পারে।