রাজ্যসভা নির্বাচনে এ বার ‘ক্রস ভোটিং’-এর সাক্ষী হল ওড়িশা। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্যে চারটি আসনে ভোট ছিল। তার মধ্যে তিনটিতে জয়ী হয়েছে বিজেপি। একটিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের দলের প্রার্থী। বিজেডি এবং কংগ্রেসের ১১ জন বিধায়ক বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ।
পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসাবে সে রাজ্যের দু’টি রাজ্যসভা আসনে বিজেপি প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত ছিল। আর একটি আসন থেকে নিজেদের প্রার্থীকে রাজ্যসভায় পাঠানো নিশ্চিত ছিল নবীনের দল বিজেডি-র। গোল বেধেছিল চতুর্থ আসন নিয়ে। এই আসনে বিজেপির জয় আটকাতে কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া করেছিল বিজেডি। দুই দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই চতুর্থ আসনে প্রার্থী করেছিল ওড়়িশার বিশিষ্ট চিকিৎসক দত্তেশ্বর হোতাকে। অন্য দিকে, চতুর্থ আসনে বিজেপি প্রার্থী করেছিল প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা শিল্পপতি দিলীপ রায়কে। ওই আসনে দ্বিতীয় পছন্দের ভোটে দত্তেশ্বরকে হারিয়ে জিতেছেন দিলীপ।
অন্য তিনটি আসনের মধ্যে বিজেপির মনমোহন শ্যামল ও সুজিত কুমার ৩৫টি করে প্রথম পছন্দের ভোট পেয়ে জিতেছেন। প্রথম পছন্দের ৩১টি ভোট পেয়ে জিতেছেন বিজেডি-র সন্ত্রুপ মিশ্রও। চতুর্থ আসনে কোনও প্রার্থীই প্রয়োজনীয় প্রথম ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় পছন্দের ভোটের গণনা করে ফলাফল নির্ধারিত হয়। ভোটের আগেই দল ভাঙার আশঙ্কায় ওড়িশায় কংগ্রেসের ১৪ জন বিধায়কের মধ্যে আট জনকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বেঙ্গালুরুতে। সেখানকার এক রিসর্টে ‘ক্রস ভোটিংয়ের’ প্রলোভন দেখিয়ে এক কংগ্রেস বিধায়ককে ফাঁকা চেক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তার পরেই কংগ্রেসশাসিত কর্নাটক সরকার ওড়িশার দু’জন বাসিন্দাকে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করেছিল। এর মধ্যে রবিবার ‘নিখোঁজ’ হয়ে যান কংগ্রেস বিধায়ক দাশরথি গোমাঙ্গ।
কংগ্রেসের একটি সূত্র জানাচ্ছে, দাশরথি ছাড়াও রমেশ জেনা এবং সোফিয়া ফিরদৌস ক্রস ভোটিং করেছেন। একই পথ নিয়েছেন বিজেডির আট বিধায়ক। ফলে জয় পেয়েছেন বিজেডি, কংগ্রেস ঘুরে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দিলীপ। প্রসঙ্গত, এই দফায় দেশের ১০টি রাজ্যের মোট ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে ভোট হওয়ার কথা ছিল। পশ্চিমবঙ্গ-সহ অধিকাংশ রাজ্যেই ভোটাভুটি ছাড়াই সাংসদেরা নির্বাচিত হয়ে গিয়েছেন। তাঁদের হাতে জয়ের শংসাপত্রও তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনটি রাজ্যে একটি পদের জন্য একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটাভুটি অবধারিত হয়ে পড়েছে। ওড়িশার চারটির পাশাপাশি বিহারের ছ’টি এবং হরিয়ানার দু’টি রাজ্যসভা আসনেও ভোট হয়েছে সোমবার। হরিয়ানায় ভোটপর্ব শেষের পরে অনিয়মের অভিযোগ দুই কংগ্রস বিধায়কের ভোট বাতিলের দাবি তুলেছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপির অনিল ভিজের ভোট বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে কংগ্রেসের তরফে।