ইরানের তিনটি জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে ঢোকার অনুমতি দিয়েছে ভারত। সোমবার রাজ্যসভায় পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বলতে উঠে এমনটাই জানালেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। জয়শঙ্কর জানান, গত ১ মার্চ ভারতের তরফে ইরানের তিনটি জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি জানান, সরকার মনে করছে, এ ক্ষেত্রে সঠিক কাজই করা হয়েছে। তিনটি ইরানি জাহাজের মধ্যে একটি কেরলের কোচি বন্দরে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।
জয়শঙ্কর জানান, ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইআরআইএস লাভান’-কে কোচি বন্দরে আশ্রয় দেওয়ার জন্য সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। জয়শঙ্কর এ-ও জানান যে, তিনি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে বিদেশমন্ত্রীর কথায়, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এই মুহূর্তে যোগাযোগ রাখা কঠিন।
তবে জয়শঙ্করের বক্তৃতা শুরু হতেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং বিতর্কের দাবি জানায় কংগ্রেস এবং অন্য বিরোধী দলগুলি। তার পর কক্ষত্যাগ করেন বিরোধী সাংসদেরা। রাজ্যসভার পর লোকসভায় পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন জয়শঙ্কর। কিন্তু বিরোধীদের হইহট্টগোলের জেরে দুপুর ৩টে পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়।
বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুরেই তিনি আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান জয়শঙ্কর। বলেন, “ভারত সর্বদা শান্তির পক্ষে।” যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই তেল আমদানির বিষয়ে ভারতের অবস্থান আরও এক বার ব্যাখ্যা করেন জয়শঙ্কর। স্পষ্ট করে দেন যে, এ ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে।
জয়শঙ্কর রাজ্যসভায় বলেন, “ভারতীয়দের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। আমাদের জাতীয় স্বার্থ সর্বদাই গুরুত্বপূর্ণ।” সম্প্রতি আমেরিকার অর্থ দফতরের সচিব স্কট বেসেন্ট দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের জোগান সুনিশ্চিত রাখতে রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে ভারতকে ৩০ দিনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। নয়াদিল্লি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায় তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিরোধী দলগুলি। এই পরিস্থিতিতে বিদেশমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, এ ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে। তিনি বলেন, “জ্বালানি-নিরাপত্তা নিয়ে সরকার দায়বদ্ধ রয়েছে। খরচ, ঝুঁকি, জোগান কেমন রয়েছে, সেই বিষয়গুলি মাথায় রাখা হচ্ছে।
সোমবার রাজ্যসভায় জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি সকলের কাছেই গভীর উদ্বেগের বিষয়। সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র নজর রাখছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এর উপরে নজর রেখেছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বহু ভারতীয় পশ্চিম এশিয়ায় আটকে রয়েছেন। তাঁদের ফেরাতে কেন্দ্র সব ধরনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।