ব্রিটেন থেকে কি বেলজিয়ামে পালিয়েছেন নীরব মোদী? লন্ডনে ভারতীয় হাই কমিশন সূত্রে তেমনই খবর বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা। তবে ভারতীয় নয়, সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট নিয়ে তিনি বেলজিয়াম পালিয়ে গিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য নীরব দরবার করছেন বলে সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমগুলিতে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই তিনি সে দেশ ছেড়ে ব্রাসেলসে আশ্রয় নিয়ছেন বলে দাবি সংবাদ সংস্থার।

পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ১৩০০ কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি সামনে আসার পরই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান ভারতীয় হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী এবং তাঁর ব্যবসা সহযোগী তথা মামা মেহুল চোক্সী। তার পর থেকে তিনি ব্রিটেনেই গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর মেলে। এরপর সম্প্রতি খবর প্রকাশিত হয়, ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য তদ্বির শুরু করেছেন নীরব। নতুন করে প্রত্যর্পণের তোড়জোড় শুরু করে নয়াদিল্লিও। সোমবারই ইন্টারপোলকে চিঠি লিখে নীরব মোদী ও বেলজিয়ামে বসবাসকারী তাঁর ভাই নিশালের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারির আর্জি জানায় সিবিআই। আবার মঙ্গলবারই মুম্বইয়ের একটি বিশেষ আদালত নীরব মোদী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জামিন অযোগ্য ধারায় ওয়ারেন্ট জারি করে। পাশাপাশি দু’দিন আগেই নয়াদিল্লিতে ব্রিটিশ সন্ত্রাস দমন বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজু দাবি করেন, নীরব মোদী ব্রিটেনেই রয়েছেন।

পর পর এই নড়াচড়ার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতেই মঙ্গলবার বা বুধবার নীরব মোদী বিমানে বেলজিয়ামে পালিয়ে গিয়েছেন বলে খবর। ব্রিটেন ছাড়তে ব্যবহার করেছেন সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট। ভারতীয় হাই কমিশনের ওই সূত্রের বক্তব্য, ‘‘ইন্টারপোল নয়াদিল্লিকে জানিয়ে দিয়েছে, ৩১ মার্চের পর নীরব মোদীর ভারতীয় পাসপোর্ট আর কোথাও ব্যবহার হয়নি। তাই নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করেননি নীরব। আর সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট নিয়ে পালালে সিঙ্গাপুরের উপর চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া ভারতের কিছু করার নেই। কারণ, নীরবের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছে ভারতীয় পাসপোর্টের বিরুদ্ধে।” বেলজিয়ামেরই নাগরিক নীরবের ভাই নিশাল মোদী। ফলে সেখানে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অমূলক নয় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আরও পড়ুন: মাল্য-মোদীকে ফেরাতে পাশে থাকবে ব্রিটেন
আরও পড়ুন: ভয় পাই না, ফের নিজস্বী দুই সুন্দরীর

যদিও একটি সূত্রে খবর মিলেছে, একাধিক ভারতীয় পাসপোর্টও থাকতে পারে নীরব মোদীর। এ প্রসঙ্গে লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের ওই সূত্রের ইঙ্গিত, ‘‘টাকায় অনেক কিছুই করতে পারে। কোন দেশের পাসপোর্ট নিয়ে নীরব মোদী ব্রিটেনে এসেছেন বা ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সে বিষয়ে সে দেশের সরকারই বলতে পারবে।’’

যদিও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে এ বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন পাঠালেও তার কোনও উত্তর মেলেনি বলে সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।