শ্রীলঙ্কার এক স্থানীয় টিভি চ্যানেলে বিস্ফোরণের আগের মুহূর্তের অদ্ভুত একটি ভিডিয়ো সামনে এসেছে। এটি একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। যেখানে দেখা যাচ্ছে এক সন্দেভাজন জঙ্গি পিঠে একটি ব্যাগ নিয়ে চার্চে ঢুকছে। তার আগে চার্চের বাইরে একটি বাচ্চা মেয়েকে আলতো করে আদর করে যাচ্ছে।

কলম্বো থেকে ৪০ মিনিটের দূরত্বে নেগাম্বোর সেন্ট সেবাস্টিয়ান চার্চ। এই চার্চেও রবিবার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তার আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। সেই ক্যামেরাগুলির অন্তত দুটিতে ধরা পড়েছে সন্দেহভাজন ওই জঙ্গির ছবি।

ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, গাল ভর্তি হাল্কা দাড়ি, চশমা, হাল্কা নীলের টি-শার্ট, কালো রঙের ট্রাউজার ও পায়ে চপ্পল পরে এক ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছে চার্চের দিকে। পিঠে একটি বড় ব্যাগ।

সন্দেহভাজন ওই জঙ্গি যখন চার্চের দিকে এগোচ্ছিল সেই সময় সাদা ফ্রক পরা এক বাচ্চা মেয়ে এক ব্যক্তির হাত ধরে উল্টো দিকে যাচ্ছিল। বাচ্চা মেয়েটিকে অতিক্রম করার সময় বাঁ হাত দিয়ে তার গালে বা মাথায় আদর করে যায় সন্দেহভাজন জঙ্গি। তার পর ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে চার্চে ঢুকে যায়। ওই জঙ্গির চলে যাওয়ার দিকে এক মুহূর্ত তাকিয়েও থাকে বাচ্চা মেয়েটি।

সন্দেহভাজন চার্চের বারান্দা পার করে একটি দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। সেই সময় চার্চের সব বেঞ্চ ভর্তি। কয়েকজন পিছনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সন্দেহভাজন জঙ্গি ধীরে ধীরে ঢুকে চার্চের মাঝখানে যাচ্ছে। এই পর্যন্তই ফুটেজটি প্রকাশ করা হয়েছে।

 

এক প্রত্যক্ষদর্শী দিলীপ ফার্নান্ডো জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের কিছু আগে তিনি সেখানে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিল নাতনি। বছর তিরিশের এক ব্যক্তি ভারি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে তাঁদের পার করে চার্চের দিকে এগিয়ে যায়। ওই ব্যক্তির চোখে-মুখে ভয় বা উত্তেজনার লেশ মাত্র ছিল না। তাকে শান্ত, নিরীহ মনে হচ্ছিল। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি দিলীপ ফার্নান্ডোর নাতনির মাথায় হাত বুলিয়ে যায়।

আরও পড়ুন : শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের দায় নিল আইএস

আরও পড়ুন : ‘খুব শীঘ্রই দেখা হবে’, শ্রীলঙ্কায় হামলার আগে ফেসবুকে লিখেছিলেন ডায়েটার

শুধু এই চার্চে বিস্ফোরণেই ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালেই অন্তত ১০০টি দেহ পৌঁছেছিল। ইউনিসেফ জানিয়েছে ওই চার্চে মৃতদের মধ্যে ২৭টি শিশুও রয়েছে।

সব ঘটনাকে এখন ছাপিয়ে গিয়েছে সন্দেহভাজন ওই জঙ্গি ও তার আচরণ। যে ব্যক্তি একটি শিশুকে দেখে মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দিতে পারে, সেই ব্যক্তি কী করে চার্চে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ১০০ জনের প্রাণ নিয়ে নেয়? সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে।