ধর্মদ্রোহ আইনে অভিযুক্ত পাকিস্তানি খ্রিস্টান মহিলা আসিয়া বিবিকে মুক্তি দিল পাক সরকার। মুলতান শহরের জেল থেকে আসিয়াকে মু্ক্তি দেওয়া হয়েছে, এ কথা জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী সইফুল মুলুক। সংবাদ সংস্থা বিবিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য একটি বিমানেও উঠেছেন তিনি। কিন্তু কোথায় যাচ্ছেন, তা এখনও জানা যায়নি।

২০১০ সালে ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগে আসিয়া বিবিকে ফাঁসির সাজা দিয়েছিল পাকিস্তানি আদালত। যদিও সম্প্রতি সেই মৃত্যুদণ্ড রদ করে আসিয়া বিবিকে মুক্ত করার নির্দেশ দেয় পাক সুপ্রিম কোর্ট। এর পরই আসরে নেমেছিল পাক কট্টরপন্থীরা। তাতে নেতৃত্ব দেয় ইমরানের জোট সরকারের সঙ্গী তেহরিক ই লাবাইক। বিচারপতি, আইনজীবী ও আসিয়ার ফাঁসির দাবিতে তাঁদের আন্দোলনে অচল হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। কট্টরপন্থীদের চাপে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার রাস্তাতেই হেঁটেছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আসিয়া বিবিকে দেশ থেকে বেরোতে দেওয়া যাবে না এবং তাঁর মুক্তির নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন জানানো যাবে, এই ছিল চুক্তির মূল দুটি বিষয়।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ফের কট্টরপন্থীদের দাপট, প্রাণ বাঁচাতে দেশত্যাগী আসিয়া বিবির আইনজীবী

কট্টরপন্থীদের হুমকির মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী সইফুল মুলুকও। তিনিই জানিয়েছেন, মুলতানের জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে আসিয়া বিবিকে। আসিয়ার মুক্তির খবরে ফের নতুন করে অচল হওয়ার মুখে পাকিস্তান। ইতিমধ্যেই ইমরানের জোটসঙ্গী তেহরিক ই লাবাইকের তরফে জানানো হয়েছে, আসিফাকে মুক্তি দিয়ে চুক্তিভঙ্গ করেছে পাক সরকার। এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেই শক্তি প্রদর্শন করা হবে। অর্থাৎ, এ বার ঘরের মাটিতেও শিয়রে শমন ইমরানের।

আসিয়ার ফাঁসির দাবিতে ফের রাস্তায় কট্টরপন্থীরা। ছবি: এএফপি। 

২০০৯ সালে পাকিস্তান পঞ্জাবের শিকরপুরায় মাঠে বেরি তুলতে গিয়ে দুই প্রতিবেশী মহিলার সঙ্গে বচসা বাধে খ্রিস্টান মহিলা আসিয়া নুরিন ওরফে আসিয়া বিবির। বচসার সময় ইসলাম ধর্মগুরুকে অবমাননা করেছেন, আসিফার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছিল।  আর তা নিয়েই গত আট বছর ধরে লাগাতার তোলপাড় হয়েছে পাক রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন। একের পর এক খুন, বিক্ষোভ, দেশ অচল হয়ে  যাওয়া, কোনও কিছুই বাকি ছিল না। পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট এবং পোপ ফ্রান্সিস, পরপর দুই খ্রিস্টান ধর্মগুরু তাঁর মুক্তির জন্য পাক সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি, আসিয়ার মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে চরমপন্থী অবস্থান নেয় কট্টরপন্থী রাজনৈতিক ও জঙ্গি সংগঠনগুলিও। আসিয়ার মুক্তির পক্ষে কথা বলায় আততায়ীদের হাতে খুন হন পাকিস্তানের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টি এবং পঞ্জাবের গভর্নর সলমন তাসির।

মায়ের মুক্তির দাবিতে আসিয়া বিবির মেয়েরা। ফাইল চিত্র। 

আরও পড়ুন: রাশিয়ার ভূত তাড়া করছে ট্রাম্পকে, অ্যাটর্নি জেনারেলকে বরখাস্ত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

কিছু দিন আগেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠা পাকিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক দুনিয়ার কাছে আশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছিলেন আসিয়ার স্বামী ও চার সন্তান। তাঁদের আশ্রয় দিতে রাজিও হয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। সম্ভবত সেরকম কোনও দেশেই পাড়ি দিয়েছেন আসিয়া। আপাতত নিরাপত্তার কারণেই গোপন রাখা হচ্ছে তাঁর গন্তব্য।

(সারা বিশ্বের সেরা সব খবর বাংলায় পড়তে চোখ রাখতে পড়ুন আমাদের আন্তর্জাতিক বিভাগে।)