আর্থিক দুর্নীতির মামলায় সোমবার পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তথা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর স্বামী আসিফ আলি জ়ারদারিকে গ্রেফতার করল ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি বুরো (ন্যাব)। এর আগে তারাই পানামা দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ় শরিফের বিরুদ্ধে তদন্ত করেছিল। তার জেরেই দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে জেল খাটছেন নওয়াজ়।  

জ়ারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অবশ্য বহু দিনের। বেনজির ভুট্টো প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই বারবার তাঁর নাম জড়িয়েছে একাধিক কেলেঙ্কারিতে। জেলও হয়েছে। এক কালে লোকমুখে জ়ারদারির নামই দাঁড়িয়েছিল ‘মিস্টার টেন পারসেন্ট’। এ দিন ন্যাব তাঁকে গ্রেফতার করল ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করার অভিযোগে। জ়ারদারি এবং তাঁর বোন ফারিয়াল তালপুর-এর নামেই চলছিল কোম্পানিটা। এ দিন জ়ারদারি ও তালপুরের আগাম জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দেয় বিচারপতি আমির ফারুক ও বিচারপতি মহসিন আখতার কয়ানিকে নিয়ে গঠিত ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বেঞ্চ। জ়ারদারি ও তালপুরকে গ্রেফতারের অনুমতি মেলে। তার পরে গ্রেফতারি ছিল সময়ের অপেক্ষা। তবে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি তালপুরকে।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার আসাদ কায়সারকে জ়ারদারির গ্রেফতারির বিষয়টি জানিয়েছিল ন্যাব। তবে পাকিস্তানের বিরোধী দলনেতা তথা পিএমএল-এন সাংসদ শাহবাজ শরিফ গ্রেফতারির বিরোধিতা করে স্পিকারকে জানিয়েছিলেন, জ়ারদারি প্রথম থেকেই ন্যাবের সঙ্গে সহযোগিতা করে আসছেন। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে গ্রেফতারি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক তাঁকে। তবে বলাই বাহুল্য শরিফের সেই আবেদন গুরুত্ব পায়নি।   

হাইকোর্টের রায়ের পরে এ দিন বিরাট পুলিশ বাহিনী নিয়ে জ়ারদারির এফ-৮ সেক্টরের বাড়িতে হানা দেয় ন্যাব-এর ১৫ সদস্যের দল। গ্রেফতারি নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট পথে গাড়ি চলাচলও বন্ধ রাখে পুলিশ। সূত্রের খবর, জ়ারদারিকে রাওয়ালপিন্ডিতে  ন্যাবের লক আপেই রাখার বন্দোবস্ত হচ্ছে। ন্যাবের দল রাওয়ালপিন্ডির অফিসে পৌঁছনোর পরে হেফাজতে নেওয়ার আগে শারীরিক পরীক্ষা করা হবে তাঁর। সেই জন্য চিকিৎসকদের নিয়ে একটি দলও গঠন করেছে ন্যাব।

সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের দরজা অবশ্য এখনও খোলা থাকছে জ়ারদারি ও তালপুরের কাছে। এ দিন আইনি প্রক্রিয়া ঠিক করতে তড়িঘড়ি বৈঠকে বসে পিপিপি। দলীয় চেয়ারম্যান তথা জ়ারদারি-পুত্র বিলাবল ভুট্টো জ়ারদারি সমর্থকদের কাছে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি বলেছেন, ‘‘ইসলামাবাদ হাইকোর্টের লিখিত নির্দেশ পাওয়ার পরেই ভবিষ্যৎ কৌশল ঠিক করা হবে।’’