নয় বছরের খুদে দাবাড়ু শ্রেয়স রয়্যাল। ব্রিটিশ মুলুকে ইতিমধ্যেই এই ভারতীয় প্রতিভার জুটেছে ‘বিস্ময় বালক’ তকমা। দাবা বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, তাঁর মধ্যে ভবিষ্যতের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সব উপাদান মজুদ। ভিসার মেয়াদ ফুরোচ্ছে, তাই পরের মাসেই তাঁর ভারতে ফিরে আসার কথা। এ হেন প্রতিভার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছে না ব্রিটেনের ক্রীড়াজগত। তা আটকাতে আসরে নামলেন দুই ব্রিটিশ রাজনীতিক।

শ্রেয়সের বাবা তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী হিসেবে কাজ করেন ইংল্যান্ডে। আগামী মাসেই তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাই বাবার সঙ্গে ভারতে ফিরে আসার কথা শ্রেয়সের। তা আটকাতেই ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দিয়ে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে অনুরোধ করলেন দুই ব্রিটিশ সাংসদ। পাশাপাশি ব্রিটিশ ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সচিবকেও আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ভিসা জটিলতায় ইংল্যান্ড হারাতে চলেছে এক বিরল প্রতিভা। যে দাবাড়ুকে ইংল্যান্ড চেস ফেডারেশন ইতিমধ্যেই আগামী প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ভারতে জন্মালেও তিন বছর বয়সে বাবার সঙ্গে ইংল্যান্ডে চলে যান শ্রেয়স। ছয় বছর বয়সে দাবাতে হাতেখড়িও ব্রিটিশ মুলুকে। স্কুলে পড়ার পর বাড়ির কাছেই একটি অ্যাকাডেমিতে খেলার শুরু। ৯ বছর বয়সেই ইংল্যান্ডের হয়ে একের পর এক দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে ফেলেছেন শ্রেয়স। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ডের হয়ে রুপোও জিতেছিল সে। তার বয়সী দাবাড়ুদের বিভাগে শ্রেয়সের র‌্যাঙ্কিং এখন চার। তাই শ্রেয়সকে নিয়ে টানাপড়েনের সঙ্গত কারণও আছে।

৩ বছর দাবা খেলেই শিরোনামে শ্রেয়স। ছবি- তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সৌজন্যে

ইংল্যান্ডে দাবা প্রশিক্ষণের যে পরিকাঠামো, তা ভারতে মিলবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান তাঁর বাবাও। যে কারণে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি ইংল্যান্ডে থাকতে চেয়ে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রসচিবকে আবেদনও করেছিলেন তিনি। যদিও সেই আবেদনে প্রথমে সাড়া দেয়নি ব্রিটিশ সরকার।

আরও পড়ুন: মুখ খুললেন ওসামার মা

দুই ব্রিটিশ রাজনীতিক আসরে নামায় বল ফের সরকারের কোর্টে। ভারত নাকি ইংল্যান্ড, বিশ্ব দাবায় শ্রেয়স কার পতাকা তুলে ধরবেন তার ফয়সলাও আপাতত ইংল্যান্ডের হাতেই।